তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
‘রাস্তায় থায়ি, শ্যাষ রাইতে জম্ভের শীত করে, কষ্টের শ্যাষ নাই’
ঘন কুয়াশায় ঢাকা গোপালগঞ্জ। ছবি: সমকাল
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯:০৪ | আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯:০৫
‘কতদিন ধইরে শীত যাচ্ছে। রাস্তায় থায়ি। শ্যাষ রাইতে জম্ভের শীত করে। কষ্টের শ্যাষ নাই। কাজ নাই। রড় কষ্টে আছি।’ কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা রমজান আলী (৫০)।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। দেশের কোথাও কোথাও টানা ২৩ দিন দেখা যায়নি সূর্যের দেখা। ফলে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ গোপালগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি চলতি মৌসুমে দেশ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
ঘন কুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতে গোপালগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউই। সড়ক-মহাসড়কগুলোতে দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতে বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। এছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে বোরো ধান রোপণে ব্যাঘাত ঘটছে কৃষকদের।
গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে গোপালগঞ্জে শীতের দাপট শুরু হয়। ওই দিন থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি এতদিন। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে সূর্যের দেখা মেলে। তারপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীত কমেনি।
এদিকে জেলাজুড়ে শীত জেঁকে বসায় ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে। শিশু-বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষ ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, মঙ্গলবারের তুলনায় আজ বুধবার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সোমবার গোপালগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি। বুধবার সকালে বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। কুয়াশার দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটার বিরাজ করছিল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, শীত মৌসুমে এ ধরনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে ১০ ডিগ্রি পার্থক্য থাকলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয় । এখানে গত কয়েক দির ধরে তাই হয়েছে। এটিকে আমরা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করছি।
সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকার আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুদিন এ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
আবু সুফিয়ান আরও জানান, দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সূর্য দেখা গেছে। তারপর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টায় গোপালগঞ্জের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার থেকে জেলার তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। তখন থেকে শীত কিছুটা কমবে। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহের আভাস দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের লখন্ডা বিলের কৃষক দিজবর বাড়ৈ (৬০) বলেন, ‘শীতে মইরগে যাইতেছি। মাডের কাম হরতে পারছিনে। মাডে নামলে শীতে ঠক ঠক হইরগে কাপতি হয়। কাম হরা যায় না। তাই বাড়ি বইসকে রইছি। কোন কামাই নাই।’
তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক মিলু মুন্সি (৫৮) বলেন , ‘১২টা বাজে, দুই ঘণ্টা হয় বের হইছি। আগে আরও সকাল সকাল বের হতাম। একে তো শীতে লোকজন বাইরে বের হয় না। আর ভ্যানেও লোকজন উঠতে চায় না বাতাস লাগে বলে। ইজিবাইক আর রিকশায় বেশি ওঠে। শীতের কারণে কামাই অর্ধেকও নাই, বাইচে থাকাই কষ্ট। সন্ধ্যার পর শহরে মানুষ আরও কমে যায়, তাই আগে আগে বাড়ি চলে যাই।’
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবীতেষ বিশ্বাস বলেন, ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু রোগী এখনও হাসপাতালে আসতে শুরু করেনি। তবে শীত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হলে শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে। তিনি শিশুদের গরম কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রেখে ঠান্ডা না লাগানোর পরামর্শ দেন।
- বিষয় :
- গোপালগঞ্জ
- শীতে জবুথবু
- তাপমাত্রা
