হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে গরমিল নিয়ে সারজিস আলমের ব্যাখ্যা
ছবি: সমকাল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩০
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার হলফনামায় তথ্য গরমিলের কথা বলা হয়েছে। যেদিন আমাদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়, আপনারা সবাই সেখানে ছিলেন। সেখানে রিটার্নিং অফিসার বলেছিলেন, যে হলফনামা আমরা দাখিল করেছিলাম, সেখানে আমাদের আয়কর রিটার্ন ও মেজর যে বিষয়গুলো ছিল, সবগুলোই ঠিক ছিল। সেজন্য তিনি ওই মনোনয়নপত্রটিকে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি সেখানে সবার সামনে তা উল্লেখ করেছিলেন।
বুধবার দুপুরে পঞ্চগড়ের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আমাদের আয়কর রিটার্নে দেখানো আয়ের তথ্যটির ক্ষেত্রে আমরা একটা মিসটেক করেছি। আমাদের অ্যাডভোকেট এই টাইপটি করেছিলেন। তার এটা টাইপিং মিসটেক ছিল, এই জায়গায় তার একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল। যেখানে তার নয় লাখ টাকা লেখার কথা ছিল, সেখানে তিনি ২৮ লাখ টাকা লিখেছিলেন। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলটাও কিন্তু সেদিন আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। সেটা আমাদের সংশোধন করে একটা সাপ্লিমেন্টারি, নতুন করে আরেকটা পাতা কিংবা হলফনামা আমাদের আবার দিতে বলেছিলেন। পরে আমরা ওই পাতা দিয়েছি এবং এটা কিন্ত আইনগতভাবেই করা যায়।
সারজিস আলম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছে করে প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। আমি নাকি ওবায়দুল কাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে সহযোগিতা করেছি। ওবায়দুল কাদেরের মতো একটা কালপ্রিট, যার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই, আমাদের পেলে শরীর থেকে মাথাটা আলাদা করে ফেলবে। জুলাইয়ে যারা যোদ্ধা ছিল, তাদের মারার জন্য যারা পরিকল্পনা করছে, তাদের আমি সহযোগিতা করবো! মনগড়া কথার একটা লিমিট থাকে, যেটার বিন্দুমাত্র কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নাই এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হলো।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, তিনি যা করবে, তাই করে পার পেয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। তার মন চাইলো সোশ্যাল মিডিয়ায় যা তাই পোস্ট করে দিল, মানুষকে বিভ্রান্ত করলো, তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এটা হতে পারে না। আমরা মনে করি, এই ধরনের যারা আছে, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক হোক, অন্যান্য কোনও উদ্দেশ্য হোক, এগুলো চরিতার্থ করছে এবং মানুষের সম্মানহানি করছে, তাদের শুধু সোশ্যাল মিডিয়া, পেজ বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ নয়, দেশে বা বিদেশে হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিএনপির লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, তারা আমাদের নেতাকর্মীদের দেখে নিবে। নির্বাচনের আগে এখনই যদি তারা ক্ষমতা, পেশিশক্তি ও কালো টাকার দাপট দেখায়, তাদের মাধ্যমে আগামীর নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলবো। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী যদি মনে করে এই ধরনের আওয়ামী কালচার করে পাড় পেয়ে যাবে, তা এই বাংলাদেশে হবে না।
তিনি আরও বলেন, যদি এই এক দেড় বছরে কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির প্রমাণ করতে পারে তাহলে যে শাস্তি দেবে আমি মেনে নেব। কিন্তু আওয়ামী লীগের পেইড এজেন্ট হিসেবে তাদের টাকায় যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। এর বড় উদাহরণ সুরভী। তার মামলার এজাহারে আছে ৫০ হাজার টাকা সেটিকে ৫০ কোটি বলে প্রচার করা হলো। পরে জানা গেলো সেটিও মিথ্যে। একজন সো কল্ড সাংবাদিকের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে সমাজে তার মুখ দেখার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে মিডিয়া যেভাবে আমাদের বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছে, সেভাবেই নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
