৫ হাজার হেক্টরে কচুরিপানার স্তূপ ফসল আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
শস্য ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে এবার কচুরিপানার ভয়াবহ স্তূপ কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে জমে থাকা কচুরিপানার কারণে একদিকে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে দেশি প্রজাতির মাছ ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা হুমকির মুখে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার হেক্টর জমি এখন কচুরিপানার নিচে। পানি নামতে দেরি হওয়া এবং উজানের কচুরিপানা আটকে যাওয়ায় এ বছর রবিশস্যের আবাদ গত বছরের তুলনায় অর্ধেক কমে গেছে। গত বছর ৪ হাজার হেক্টর জমিতে রবিশস্য চাষ হলেও এবার তা নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার হেক্টরে। সরিষা, গম ও ভুট্টা চাষ না হওয়ায় জাতীয় উৎপাদনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে যারা নানা সংকটের পরও ফসল আবাদ টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের কচুরিপানা অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিঘাপ্রতি কচুরিপানা পরিষ্কার করতে কৃষকদের বাড়তি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অনেক কৃষক লোকসানের ভয়ে চাষাবাদ না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
কচুরিপানার কারণে হুমকির মুখে দেশি মাছ ও মৎস্যজীবীরাও। চলনবিলের দেশি মাছের চাহিদা সারাদেশে। বিল ও খাল-বিলে কচুরিপানা জমে থাকায় মাছের জন্য দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। এ ছাড়া কচুরিপানা দ্রুত পচাতে কৃষকরা কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ করছেন, যার ফলে স্তূপের নিচে থাকা দেশি প্রজাতির মাছ মরে যাচ্ছে। এতে মাছের বংশবিস্তার ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চলমান এসব সংকটের কারণে প্রায় ৮ হাজার জেলে পরিবার এখন দুশ্চিন্তায়। বিলে জাল ফেলার জায়গা না থাকায় এবং মাছ কমে যাওয়ায় অনেক মৎস্যজীবী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
দমদমা গ্রামের মৎস্যজীবী আব্দুস সালামের ৫ বিঘা জমি আছে হিয়ালা বিলে। পুরো জমি কচুরিপানায় ঠাসা। তিনি জানান, কচুরিপানা অপসারণে বিষ দিয়েছেন, এতে মাছ মরে যাচ্ছে। বিলের বেশির ভাগ জমির একই অবস্থা। এ কারণে তাঁর মতো অনেকে কর্মহীন হয়ে বসে আছে।
হিয়ালা বিল, সাতপুকুরিয়া, ডাহিয়া, ইটালিসহ বেশ কিছু বিলে সরেজমিন দেখা গেছে ২-৩ হাত উঁচু কচুরিপানার স্তূপ। হিয়ালা বিলের কৃষক জামাল সরদার জানান, তাঁর ১১ বিঘা জমিতে যে পরিমাণ কচুরিপানা জমেছে, তা সরকারি সাহায্য ছাড়া পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। আরেক কৃষক আলম হোসেন জানান, খরচ সামলাতে না পেরে তিনি এবার ধান চাষই করতে পারছেন না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন সমকাল প্রতিবেদককে জানান, কচুরিপানার কারণে অক্সিজেন স্বল্পতায় মাছ মরে যাচ্ছে, যা দেশি মাছের উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলবে। এতে জেলেদের জীবিকা সংকটে পড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বর্ষা ও অসময়ে বন্যার কারণে উজান থেকে এই কচুরিপানা ভেসে এসেছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও কচুরিপানা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
- বিষয় :
- মাছ ধরা
