ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
অব্যবস্থাপনা ও যানজটে ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ দর্শনার্থী
ছবি-সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৫:২৬
রঙিন স্টল, পণ্যের বৈচিত্র্য আর পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ– সবই আছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। কিন্তু সেই আনন্দের জায়গায় এবার বড় হয়ে উঠেছে ভোগান্তি আর হতাশা। অব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও তীব্র যানজটের কারণে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে চলমান মেলার নবম দিন গতকাল রোববার গিয়ে এমনই হতাশার চিত্র মিলেছে। এর প্রভাব পড়ছে দর্শনার্থীর উপস্থিতিতেও।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা মেলামুখী হতে শুরু করেন। স্যুট-সাফারি, থ্রিপিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা ও গৃহস্থালির নানা পণ্য নিয়ে স্টলগুলো সাজানো। হাজী বিরিয়ানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিট, বাকেটসহ খাবারের স্টলগুলোতেও চোখে পড়ে ভিড়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দিনের শেষে বিক্রি ভালো হবে।
তবে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। গত শুক্রবার মেলার সপ্তম দিনে সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হলেও অনেকেই পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বিশেষ করে বাসায় ফেরার পথে দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হয়েছে।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা রফিকুল ইসলাম (৪২) বলেন, ‘মেলায় ঢুকতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু বের হওয়ার সময় মনে হয়েছে বড় ভুল করেছি। বাচ্চা আর বৃদ্ধ মা নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এভাবে হলে আর আসার ইচ্ছা থাকে না।’
একই অভিযোগ করেন গাজীপুর থেকে আসা গৃহবধূ শারমিন আক্তার (৩৫)। তিনি বলেন, ‘শিশুদের আনন্দ দিতে মেলায় এনেছিলাম। কিন্তু যানজটে আটকে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেলার ভেতরে ময়লা আর দুর্গন্ধ, বসার জায়গাও নেই।’
সরেজমিন দেখা গেছে, ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা থাকলেও তা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তৎপরতাও খুব একটা চোখে পড়েনি। ময়লার পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেক দর্শনার্থী নাক-মুখ চেপে ধরছেন।
মেলার নবম দিনেও একাধিক স্টলের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এতে একদিকে শব্দদূষণ হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও বলছেন দর্শনার্থীরা। পুরান ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু সাঈদ (৪৮) বলেন, ‘মেলা শুরুর আগেই স্টল নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখনও কাজ চলায় হাঁটতে গিয়ে আতঙ্ক লাগে।’
মেলায় যাতায়াতই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেলার পাশের কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে এক লেনে যানবাহন চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ট্রাফিক পুলিশের এসআই বিজন দাস বলেন, ‘হাইওয়ে বাইপাস সড়কে এক লেনে যান চলাচলের কারণে মাঝে মাঝে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা প্রতিটি পয়েন্টে কাজ করছি, যাতে যানজট কমানো যায়।’
তবে এসব সমস্যার মাঝেও শিশু বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় প্যাডেল বোট, নাগরদোলা ও বিভিন্ন রাইডে শিশুদের আনন্দ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে চলছে কেনাকাটা।
মেলার অপারেশন ইনচার্জ এস এম আমিনুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহের কারণে শুরুতে দর্শনার্থী কম ছিল। প্রথম শুক্রবারে প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। শনিবার প্রায় ৪৫ হাজার এবং রোববার প্রায় ৩০ হাজার দর্শনার্থী হবে বলে ধারণা করছি।’
তিনি জানান, এবারের মেলায় মোট ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
- বিষয় :
- বাণিজ্য মেলা
