ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাদ্রাসা সুপারদের ‘নিয়োগ সিন্ডিকেট’

ডিজির প্রতিনিধির চিঠি জাল করে ২০ পদে ভুয়া এমপিও

ডিজির প্রতিনিধির চিঠি জাল করে ২০ পদে ভুয়া এমপিও
×

আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:০৮

রাজারহাট উপজেলায় মাদ্রাসায় নিয়োগ জালিয়াতির এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ডিজির প্রতিনিধির চিঠি ও পদের অনুমোদনপত্র জাল করে একের পর এক ভুয়া নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি করা হচ্ছে। গত পাঁচ মাসে এই অসাধু প্রক্রিয়ায় অন্তত পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

যেভাবে চলছে জালিয়াতি

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি জালিয়াত চক্র ও মাদ্রাসার কয়েকজন সুপার অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই বাণিজ্য চালাচ্ছে। ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী লাইব্রেরিয়ান এমনকি সহকারী মৌলভী পদেও কোনো বৈধ নিয়োগ ছাড়াই এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ২০টিরও বেশি পদে এভাবে ভুয়া এমপিও করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুপার জানান, বর্তমানে এমপিওভুক্ত হওয়া মানেই মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির চিঠিসহ কাগজপত্র জাল করে এমপিও বাণিজ্য।

অনিয়মের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বড়ঘাটগমীর উদ্দিন মাদ্রাসা। এ মাদ্রাসা সুপার আব্দুল আউয়াল তাঁর দুই মেয়েকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদের নিয়োগ এখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে হওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা মানেননি। ল্যাব না থাকলেও ল্যাব অপারেটর ও অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এক মেয়ের এমপিও জালিয়াতির কারণে আগে বাতিল হলেও প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করে তাঁকে পুনরায় অন্য পদে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

একইভাবে অনিয়ম করা হয়েছে সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা ও ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসাসহ কয়েকটি মাদ্রাসায়। সিরাজউদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। বিধি অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও গত নভেম্বরে তিনটি পদে নতুন এমপিও হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আগের তারিখ (ব্যাকডেট) দেখিয়ে নিয়মিত কমিটির ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।

ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদ্রাসায় চারটি পদে নিয়োগের আগেই ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা। এ ছাড়া বুড়িরহাট আব্দুস সাত্তার মণ্ডল মাদ্রাসা, কানুরাম সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসা এবং পান্থাপাড়া মাদ্রাসাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় নিয়োগ বাণিজ্য চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিটি পদের জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কম্পিউটার ল্যাব বা বিজ্ঞানাগার না থাকলেও ভুয়া ল্যাব দেখিয়ে এবং জাল অনুমোদনপত্র তৈরি করে নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বড়ঘাট মাদ্রাসার সুপার আব্দুল আউয়ালকে ল্যাব দেখাতে বললে তিনি ব্যর্থ হন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে সটকে পড়েন। সিরাজউদ্দিন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার দাবি করেন নিয়োগ আগে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন নিয়োগ সম্প্রতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, সিরাজউদ্দিন মাদ্রাসা বর্তমানে অ্যাডহক কমিটিতে চলছে এবং তিনি এর সভাপতি। এই নিয়োগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, ‘এমপিও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×