ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নাটোরে অবৈধ খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ উদ্ধার

নাটোরে অবৈধ খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ উদ্ধার
×

উদ্ধারকৃত সাপ

নাটোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২০ | ১১:২৭ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২০ | ১৩:১৮

নাটোরের নলডাঙ্গায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা সাপের খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় খামার মালিক শাহাদাত হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপজেলার বৈদ্যবেলঘরিয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ওই বিষধর সাপের খামারে অভিযান চালান। এ সময় ৪৯টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়।

দন্ডপ্রাপ্ত খামার মালিক শাহাদত হোসেন একই গ্রামের নুর মোহম্মদের ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শাহাদাত হোসেন কয়েক মাস আগে শখের বশে ৪ থেকে ৫টি সাপ নিয়ে একটি ছোট খামার গড়ে তোলেন। পরে বিষ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্য নিয়ে ওই খামারের পরিধি বৃদ্ধি করেন। তবে সাপের খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে তার কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতি ছিল না। সাপ লালন-পালন বা চাষ করার কোনো প্রশিক্ষণও নেই তার। ফলে তার খামারটি এলাকাবাসীর জন্য ছিল হুমকি স্বরূপ। তার খামারে পদ্মগোখরো ও গোখরো এই দুই প্রজাতির ৪৯টি সাপ ছিল। সবগুলো খুবই বিষধর। আর এসব বিষধর সাপের খামার গড়ে তোলার কারণে এলাকাবাসী ছিল চরম আতঙ্কে।

বিষয়টি রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়েছিল। এদিন বিকেলে রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের একটি অভিযানিক দল নলডাঙ্গায় আসে। উপজেলা পরিষদের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের নিয়ে ওই সাপের খামারে অভিযান চালায়।

খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ ও বিপুল পরিমাণ ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে সাপের খামার গড়ে তোলার অপরাধে শাহাদাত হোসেনকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে খামারটি সিলগালা করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত  সাপ ও সাপের ডিম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) জাহাঙ্গীর কবির, ফরেস্টার আশরাফুল ইসলাম, সাপ বিশেষজ্ঞ রোমন, নাটোর জেলা বন কর্মকর্তা সত্যনাথ সরকার, ওয়ার্ল্ড লাইফ জুনিয়র স্কাউট মিমনুর রহমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×