ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অবাধে কাটা হচ্ছে টিলার লাল মাটি

অবাধে কাটা হচ্ছে টিলার লাল মাটি
×

মির্জাপুরে টিলা কেটে লাল মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে কতিপয় লোক সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জাপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলছে অভিযান, আদায় করা হচ্ছে জরিমানা। তবু থামছে না মাটি কাটা। টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির মচ্ছব চলছেই। উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল, হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। লাল মাটি বহন করা ডাম্প ট্রাকের দাপটে খানাখন্দে পরিণত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক।

জানা গেছে, ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা গঠিত। এর মধ্যে আজগানা, বাঁশতৈল, তরফপুর, লতিফপুর ও গোড়াই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে ছিল শত শত উঁচু টিলা। এসব এলাকার বনে এক সময় নানা জাতের পশু-পাখির বসবাস ছিল। এই বনাঞ্চল শাল, গজারিসহ নানা জাতের ফলদ ও ঔষুধি গাছে ভরপুর ছিল। প্রতি বছর এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে টিলা কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। অন্য বছরের মতো এবারও থেমে নেই টিলা কেটে মাটি বিক্রির মচ্ছব। প্রতি বছর লাল মাটি কেটে বিক্রি করায় টিলার সংখ্যা দিন দিন কমে আসেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অঞ্চলটি টিলাশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তরফপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, গত এক মাসে এই এলাকার কমপক্ষে ১০টি বড় টিলা কেটে নিয়েছে মাটি ব্যবসায়ীরা। আরও টিলার মাটি কাটার প্রস্তুতি চলছে। একটি টিলার ওপরের আকাশমণি, কাঁঠাল, আমসহ সব গাছ-গাছালি কেটে ফেলছেন কয়েকজন শ্রমিক।

তরফপুর গ্রামের হযরত আলী, শাহ আলম ও শামিম জানান, বাঁশতৈল এলাকার এক ব্যক্তি মাটি কেটে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, টাকিয়া কদমা গ্রামের রাধারচালায় দুটি টিলার মাটি একইভাবে কেটে নিচ্ছে মাটি ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাঁশতৈল এলাকার একাধিক ব্যক্তি এই এলাকার লাল মাটি কেটে নিচ্ছে।
টিলার লাল মাটি বহন করা ডাম্প ট্রাক সব সময় চলাচল করায় গ্রামীণ সড়ক নষ্ট হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের 
বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকার কথা দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। তারা বলছেন, মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই দিনে এবং রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। গত এক মাসে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের অন্তত ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তবু থামছে না বেপরোয়া মাটি ব্যবসায়ীরা।
মাটি ব্যবসায়ী রোকনের সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মাটি ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। এখন অন্যরা করছে।
এ বিষয়ে তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি ব্যবসায়ীরা টিলা কেটে নিচ্ছে। তিনি বিভিন্নভাবে টিলার মাটি কাটতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রশাসনকেও এ বিষয়ে জানানো হয়।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিনের ভাষ্য, শুধু টিলা নয়, উপজেলার অনেক জায়গায় মাটি কাটা হচ্ছে। প্রথম থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনে এবং রাতে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানাসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাটি ব্যবসায়ীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তারাও কৌশল পরিবর্তন করে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবেন।
 

আরও পড়ুন

×