ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

প্রতিবন্ধী সেজে ভাতা নিলেন আ'লীগ নেতা

প্রতিবন্ধী সেজে ভাতা নিলেন আ'লীগ নেতা
×

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২০ | ১৫:২৩

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। তবে পায়ে সামান্য ব্যথা ছাড়া বর্তমানে তার অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। অথচ তিনি প্রতিবন্ধী সেজে ভাতা উত্তোলন করছেন। এ ছাড়া একই এলাকার সুস্থ-স্বাভাবিক জীতেন সূত্রধরও নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে ভাতা নিচ্ছেন।

পৌরসভা, সমাজসেবা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় ১২ হাজার ৭১৫ জন বয়স্ক, তিন হাজার ৩৩৩ জন বিধবা ও চার হাজার ৮১৩ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চলতি বছর এ উপজেলায় এক হাজার ১২৯ জন বয়স্ক, ৬১৪ জন বিধবা ও দুই হাজার ৩৪ জন প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়। মির্জাপুর পৌরসভায় ১১৮ জন নতুন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ তালিকায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী জীতেন সূত্রধরও রয়েছেন। পৌরসভা কার্যালয়ের প্রাপ্ত প্রকৃত প্রতিবন্ধী তালিয়কায় গোপাল গোস্বামীর নাম ১৬ নম্বর ও জীতেন সূত্রধরের নাম ৭৪ নম্বরে রয়েছে। তারা গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৯ হাজার টাকা করে ভাতা উত্তোলন করেছেন।

জানতে চাইলে ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী নিজেকে প্রতিবন্ধী দাবি করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন। পায়ে ব্যথা আছে। চিকিৎসকের দেওয়া প্রতিবন্ধী কার্ড আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, ব্যবস্থাপত্র আছে। প্রতিবন্ধী কার্ড নেই। এদিকে জীতেন সূত্রধর বলেন, পুত্রবধূ কীভাবে তার নাম প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত করেছে, তা তার জানা নেই।

মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলম মিয়া বলেন, তিনি গোপাল গোস্বামীকে চেনেন। কেউ প্রতিবন্ধী না হয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করা দুঃখজনক।

মির্জাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, জরিপ ছাড়া কাউকে ভাতার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয় না। এর পরও কেউ প্রতারণা করে ভাতার আওতাভুক্ত হয়ে থাকলে যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হবে। তবে তাদের নামে কোনো জরিপ রিপোর্ট জমা নেই বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র চন্দনা দে বলেন, প্রতিবন্ধীদের যাচাই-বাছাই করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তার (মেয়রের) প্রতিবেশী জীতেন সূত্রধর ও গোপাল গোস্বামী। তারা প্রকৃত প্রতিবন্ধী কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইউএনও আবদুল মালেক জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধীদের নামের তালিকা পৌরসভার মেয়র প্রস্তুত করে সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন বলে জেনেছেন। উল্লিখিত দু'জন প্রতিবন্ধী কিনা তা যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×