ছুটির দিনে প্রাণ ফিরেছে বাণিজ্য মেলায়
বিশেষ মূল্য ছাড়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে বিক্রেতারা
ছবি: সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩৬
কেনাকাটায় ছাড়, পণ্যের বৈচিত্র্য ও রঙিন বিনোদনের আয়োজনে জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে পূর্বাচলের ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মেলার তৃতীয় সপ্তাহের শুক্রবারে সকাল থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে প্রাঙ্গণে। টিকিট কাউন্টারে দীর্ঘ সারি, প্যাভিলিয়নে উপচে পড়া ভিড়- সব মিলিয়ে বাণিজ্য মেলা যেন রূপ নেয় এক আনন্দমুখর নগর উৎসবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা তৃতীয় সপ্তাহে এসে পেয়েছে নতুন গতি। শুক্রবার ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-স্বজন নিয়ে সকাল থেকেই মেলামুখী হন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। দুপুরের পর অনেক প্যাভিলিয়নে দর্শনার্থীর ভিড়ে হাঁটাচলাই কঠিন হয়ে পড়ে।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক, কসমেটিকস, গৃহসজ্জা, প্লাস্টিক ও রান্নাঘরের ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোয় সবচেয়ে বেশি ভিড়। ‘দুটি কিনলে একটি ফ্রি’, ‘৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়’, ‘মেলা উপলক্ষে বিশেষ মূল্য’- এমন নানা অফারে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে শীতকালীন পোশাক, শাড়ি, থ্রিপিস, শিশুদের সামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালির পণ্যে আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। ক্রেতারা এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ঘুরে দরদাম করে পছন্দের পণ্য কিনছেন।
সাভার থেকে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থী সাইফুল আলম বলেন, ‘এক জায়গায় এত পণ্যের সমাহার পাওয়া যায়- এটাই বাণিজ্য মেলার সবচেয়ে বড় সুবিধা। বাজারের তুলনায় দামও কিছুটা কম।’
মিরপুর থেকে আসা গৃহিণী নাজনীন আক্তার বলেন, ঘর সাজানোর বেশ কিছু জিনিস কিনেছি। অনলাইনে ছবি দেখে কেনার চেয়ে এখানে হাতে ধরে পণ্য দেখার সুযোগটা অনেক ভালো লাগে।
কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদন
মেলা প্রাঙ্গণে কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদনেও মেতেছেন দর্শনার্থীরা। শিশু বিনোদন কেন্দ্রে নাগরদোলা, প্যাডেল বোট, ছোট ট্রেন, হেলিকপ্টার রাইড ও স্লিপারে চড়ে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে শিশুরা। তাদের হাসি-উচ্ছ্বাসে অভিভাবকরাও যেন কিছু সময়ের জন্য ভুলে যাচ্ছেন ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি।
খাবারের জোনেও ছিল সমান ভিড়। হাজী বিরিয়ানি, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, ঝটপট, টেস্টি ট্রিটসহ নানা খাবারের স্টলে দুপুরের পর থেকেই দেখা যায় দীর্ঘ সারি। এক বিক্রয়কর্মী জানান, শুক্রবারে বিক্রি অন্য দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
এবারের মেলায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাইকও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে। আকিজ গ্রুপ ও রাইডোর প্যাভিলিয়নে আগ্রহীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আকিজ গ্রুপের ইলেকট্রিক বাইক প্যাভিলিয়নের এক কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় মানুষ এখন ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন। আমাদের একটি বাইক মাত্র ১০ টাকার বিদ্যুতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার চলতে পারে।’
রাইডোর শোরুম ম্যানেজার রাশেদ কবির বলেন, অনেকে এখনো তথ্য নিচ্ছেন- চার্জিং সময়, ব্যাটারির স্থায়িত্ব, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানছেন। ছুটির দিনে আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। মেলার শেষের দিকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পোশাকের স্টল ঢাকাই কালেকশনের ম্যানেজার সোহেল মিয়া বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহে বিক্রি কম ছিল। দ্বিতীয় সপ্তাহে কিছুটা ঘুরেছে। তৃতীয় সপ্তাহে এসে ছুটির দিনে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
আরএফএল প্যাভিলিয়নের বিক্রয় প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ বলেন, ‘গৃহস্থালির পণ্যে মানুষের আস্থা আছে। শুক্রবারে আমাদের বিক্রি সন্তোষজনক।’
জেলখানার কারাবন্দীদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প পণ্যও ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। ঝুড়ি ও শোপিস কিনে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হতে পেরে খুশি অনেক দর্শনার্থী।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় প্রায় ৯ শতাধিক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। র্যা ব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলও জোরদার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে কাঞ্চন সেতুর দুই পাশে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের চলমান সংস্কারকাজের কারণে যানজট ও ধুলাবালিতে ভোগান্তির কথা জানান অনেক দর্শনার্থী।
টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মুনকাদির ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। আজ তৃতীয় শুক্রবারে এক লাখের বেশি দর্শনার্থী হবে বলে আশা করছি।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের মেলায় ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
- বিষয় :
- বাণিজ্য মেলা
- ভিড়
