নির্বাচন নিয়ে একটি দলের বিভ্রান্তির চেষ্টা ভালো লক্ষণ নয়: আমীর খসরু
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:২২ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩১
একটি দল নির্বাচন নিয়ে নানা কথা বলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এটিকে ভালো লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১১ আসনের উন্নয়নে ১১ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন তিনি। সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘অনেকেই তো নির্বাচন চায়নি। নির্বাচনের প্রতি তাদের আস্থা নেই। আবার নির্বাচনে গিয়ে বিভিন্ন কথা শুনতে পাচ্ছি। এগুলো তো ভালো লক্ষণ না। এগুলোর মাধ্যমে যে তারা কিছু করতে পারবে সেটা না। তবে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ খুবই সজাগ। তারা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোট প্রয়োগ করবে। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। যারা এসবের মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী, মুক্তিকামী মানুষ তাদের কোনোদিন গ্রহণ করবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’
১১ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, লজিস্টিক হাবের মাধ্যমে সার্বিকভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি পড়াশোনা, ট্যুরিজম, হসপিটিলাটি বিজনেস সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা ও কর্মসংস্থানেও নজর দেওয়া হবে। দেশের জিডিপিতে চট্টগ্রামের বড় অবদানেও প্রচেষ্টা থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশিরা যখন বাংলাদেশে আসে তখন প্রথম প্রশ্ন করে আপনার বন্দরে টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম কত? অ্যাফিসিয়েন্সি কী?’ এটার ওপর নির্ভর করে তারা এখানে বিনিয়োগ করে। সুতরাং আগামী দিনের বন্দরের অ্যাফিসিয়েন্সি, টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম, কস্ট সবকিছু মিলিয়ে বন্দরকে ওই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে; যেখানে দ্য গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিসেস আছে।’
চট্টগ্রাম-১১ আসনেই চট্টগ্রাম বন্দর ও দুটি ইপিজেডের অবস্থান। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ১১ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে এক হাজার ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ; কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার; শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, পানি সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত নগর গড়ে তোলা; পরিবেশ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ; টেকসই সড়ক অবকাঠামো, কনটেইনার জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা, সহজ নাগরিক সেবা এবং পরিকল্পিত আধুনিক নগরায়ন।
একটি দলকে ইঙ্গিত করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে তা নয়, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে সাবধান হতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ‘কোয়ালিশন সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নেই: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ‘কোয়ালিশন সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে করলে বিএনপি ভাববে।
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বিএনপি যাবে কিনা বা বিএনপি সরকার গঠন করলে জামায়াতসহ ছোট দলগুলোকে নেবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটা কী? প্রথমে দর্শনগত মিল থাকতে হবে, দ্বিতীয়ত আগামীর কর্মসূচির সঙ্গে একমত হতে হবে। বিএনপির একটা দর্শন আছে। এটা রাজনৈতিক দল তো। আমাদের একটা রাজনৈতিক দর্শন আছে। এরপর আমরা ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছি ৪২ পার্টি মিলে। এদের মধ্যে আবার অনেকের সঙ্গে জোটও হয়েছে। আমাকে তো ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে, আমি জনগণের কাছে এটার জন্য দায়বদ্ধ।’