ঢাকা বিভাগের আসনগুলোতে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে যেসব উপজেলা
ঢাকা বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন ফজলুর রহমান, শামা ওবায়েদ, মুহাম্মদ আব্দুল্লাহহেল কাফি। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৩৯
কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব।
দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা করেছে সমকাল। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: ১০১ আসনে প্রভাব ফেলতে পারে ১১৬ উপজেলার ভোট
ঢাকা বিভাগ: মোট আসন ৭০ (তথ্য সংগ্রহ ২৬টির)
একাধিক উপজেলাবিশিষ্ট আসনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১-এ ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সব নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। জামায়াত ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট পায় ৪ হাজার ৬৮০টি। সদর ও হোসেনপুর নিয়ে গঠিত সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের আসনে ভোটার বেশি সদর উপজেলায়; ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৪টি। বিএনপি ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী দুজনই সদরের স্থানীয়। জামায়াত আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কাছে। সিপিবি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীও সদরের স্থানীয়। ফলে হোসেনপুর উপজেলার ভোট ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
কিশোরগঞ্জ জেলার বাকি আসনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-২-এ উপজেলাভিত্তিক ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় পাকুন্দিয়ার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারেন কটিয়াদীর ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫০২ জন ভোটার। কিশোরগঞ্জ-৩-এ করিমগঞ্জের বিপরীতে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে তাড়াইল। আসনটিতে জাতীয় পার্টির বড় একটি ভোট ব্যাংক আছে। বিগত নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০০৮ সালে জাপার মুজিবুল হক চুন্নু এ আসনের এমপি হন। ১৯৯৬ সালে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকে দলটি দ্বিতীয় এবং ২০০১ সালে তৃতীয় স্থানে ছিল। এবার দলটির প্রার্থী করিমগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক (প্রস্তাবিত) আবু বকর ছিদ্দিক। বিএনপির প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক। দুজনই করিমগঞ্জের স্থানীয়।
তুলনামূলক ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফ্যাক্টর হতে পারে যথাক্রমে মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত নির্বাচনে আসনটি ধরে রেখেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিএনপি ছিল নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দল। এবার সেখানে দলটির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান।
ঢাকা বিভাগের অন্য আসনগুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৫ এ স্থানীয় প্রার্থীর আধিক্য বিবেচনায় বাজিতপুরের বিপরীতে নিকলী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ এ ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে ভৈরব; ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৩ জন। জামায়াতের প্রার্থী ভৈরবের, বিএনপির প্রার্থী কুলিয়ারচরের।
ফরিদপুর-১ এ বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালীর মধ্যে প্রভাবক হতে পারে আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী। এ দুই উপজেলা মিলিয়ে ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৯ জন। ফরিদপুর-২ এ বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। তিনি নগরকান্দার স্থানীয়। প্রভাবক হতে পারেন সালথার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬৬ জন ভোটার।
প্রার্থীর আধিক্য ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ-৫ এ বন্দরের বিপরীতে সদর, রাজবাড়ী-১ এ সদরের বিপরীতে গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী-২ এর তিন উপজেলার মধ্যে বালিয়াকান্দি ও কালুখালী, শরীয়তপুর-১ এ জাজিরার বিপরীতে পালং, শরীয়তপুর-২ এ সখিপুরের বিপরীতে নড়িয়া, শরীয়তপুর-৩ এর তিন উপজেলার মধ্যে ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা, মানিকগঞ্জ-১ এর ঘিওর ও শিবালয়ের বিপরীতে দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ-২ এ হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ-৩ এ সদরের বিপরীতে সাটুরিয়া উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।
