চট্টগ্রাম বিভাগের আসনগুলোতে ফল নির্ধারক হতে পারে যেসব উপজেলা
চট্টগ্রাম বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, জোবায়রুল হাসান আরিফ। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৩৭ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১:৩৮
কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব।
দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা করেছে সমকাল। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: ১০১ আসনে প্রভাব ফেলতে পারে ১১৬ উপজেলার ভোট
চট্টগ্রাম বিভাগ: মোট আসন ৫৮ (তথ্য সংগ্রহ ৩৪টির)
একাধিক উপজেলাবিশিষ্ট আসনগুলোর মধ্যে নোয়াখালী-১ চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর একাংশ নিয়ে গঠিত। আসনটিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের দুই প্রার্থী সোনাইমুড়ীর স্থানীয়। বিপরীতে চাটখিলের ২ লাখ ২৮ হাজার ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থী শুধু জামায়াতের। ফলে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের জন্য চাটখিলের ভোট প্রভাবক হতে পারে।
নোয়াখালী-২: সেনবাগের সঙ্গে সোনাইমুড়ীর অপর অংশ পড়েছে এ আসনে। বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী, এনসিপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সেনবাগের স্থানীয়। ফলে এ উপজেলার ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭২ ভোট তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। বিপরীতে সোনাইমুড়ীর অংশের ৮৯ হাজার ৮২৩ ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থী নেই। বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুকের সেনবাগের ভোটে ভাগ বসাতে পারেন বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।
নোয়াখালী-৪: ৭ লাখ ২৬ হাজার ভোটারের মধ্যে সুবর্ণচরের ২ লাখ ৫২ হাজার ২৩৩ জন। সদরের একাংশে বাকি ভোটারের বিপরীতে স্থানীয় প্রার্থীকে বাছাই করেছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন। ফলে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় সদরের একাংশ ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে।
নোয়াখালী-৫: সদরের আরেক অংশ, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। সদরের এ অংশে ভোটার তুলনামূলক কম। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয়। ফলে কবিরহাটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬৩টি ভোট প্রভাবক হতে পারে।
রাঙামাটি (১০টি উপজেলা): পার্বত্য চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে জেলার সব উপজেলা নিয়ে রাঙামাটি আসন গঠিত। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা সদরের বাসিন্দা। ফলে বাকি ৯টি উপজেলার ভোটাররা জয়ের নির্ধারক হতে পারে। মোট ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ ভোটারের বিপরীতে সদরে ১ লাখ ৪ হাজার, বাঘাইছড়িতে ৮১, লংগদুতে ৬৮, কাউখালীতে ৫৩, কাপ্তাইয়ে ৫০, বরকলে ৪২, নানিয়ারচরে ৪০, বিলাইছড়িতে ২৪, রাজস্থলীতে ২১ ও জুরাছড়িতে ২০ হাজারের বেশি ভোট। গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে প্রার্থীদের দলীয় ও ধর্মীয় পরিচয়। ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সব নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জিতেছেন। এবারের নির্বাচন ঘিরেও প্রার্থী বাছাইয়ে একই প্রবণতা দেখা গেছে।
কুমিল্লা-১: বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, জাপার প্রার্থীরা দাউদকান্দির স্থানীয়। ফ্যাক্টর হতে পারে ১ লাখ ১২ হাজার ৩৩৫ ভোটারের মেঘনা উপজেলা। বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
কুমিল্লা-২: বিএনপির কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভুঁইয়া হোমনার স্থানীয়। সেখানে ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫৭ জন। তবে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ এমএ মতিন খান। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও এ উপজেলার। জামায়াতের প্রার্থী অন্য আসনের, মেঘনা উপজেলার স্থানীয়। ফলে তিতাস (১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০) উপজেলা প্রভাবক হতে পারে।
কুমিল্লা-৫: জামায়াত ও বিএনপির দুজন প্রার্থীই ব্রাহ্মণপাড়ার স্থানীয়। ভোটার সংখ্যাও কম; ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৫০ জন। বিপরীতে বুড়িচংয়ের ভোটার ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯২ জন।
কুমিল্লা-৬: বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী তিনবারের এমপি। তিনি সদর দক্ষিণ উপজেলার স্থানীয়। জামায়াতের কাজী দীন মোহাম্মদও সদর দক্ষিণের। মোট ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৬১ ভোটারের মধ্যে সদর দক্ষিণের ২ লাখ ১৪ হাজার ২৬৬ জন। ফলে সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটাররা ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে
কুমিল্লা-৯: আসনে মনোহরগঞ্জের বিপরীতে প্রভাবক হতে পারে লাকসাম উপজেলা। কুমিল্লা-১০ আসনে নাঙ্গলকোটের বিপরীতে প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লালমাই।
চট্টগ্রাম জেলার ৪টি আসন একাধিক উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় চট্টগ্রাম-৫-এ হাটহাজারী, চট্টগ্রাম-৮-এ বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম-১৪তে চন্দনাইশ এবং চট্টগ্রাম-১৫তে প্রভাবক হতে পারেন সাতকানিয়ার ভোটাররা।
