ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম

ভোটকেন্দ্রের কোথাও লাগানো হয়নি সিসি ক্যামেরা, কোথাও নেই বুথ

স্কুল থাকলেও সীমানা দেয়াল নেই কয়েকটি কেন্দ্রের

ভোটকেন্দ্রের কোথাও লাগানো হয়নি সিসি ক্যামেরা, কোথাও নেই বুথ
×

ছবি : সমকাল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০০:৩১

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ২৯১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নগর এলাকায় অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩১২টি। অন্যদিকে জেলার ১৩টি আসনে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৪৪টি।

এসব কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছে সমকাল। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামরা স্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হতে দেখা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল কম। কোনো কোনো ভোটকেন্দ্রে সীমান্ত দেয়ালই নেই। ভোটারের তুলনায় বুথের সংখ্যা কম দেখা গেছে কয়েকটিতে। 

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল সমকালকে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফোর্স থাকবে। পাশাপাশি আমাদের আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা আছে। জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ৯৯৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে আমরা কেন্দ্রগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করেছি। নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’

ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, প্রার্থীর বাসস্থানের দূরত্ব, গোলযোগের শঙ্কাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মহানগর, জেলার এলাকা এবং পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের তিন কেন্দ্রের যে হাল
মঙ্গলবার দুপুরে নগরের আরাকান হাউজিং সোসাইটির মডার্ন আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা ভবনের নিচতলায় একটি বেসরকারি স্কুলে ছোট ছোট কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম চলে। নির্বাচন কমিশন এটিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের পুরুষ কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের জন্য কেন্দ্রটি হলেও সেখানে যানবাহন নিয়ে সরাসরি প্রবেশের পথ নেই। দুটি বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো অত্যন্ত সরু। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে কেন্দ্রটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৩৪৯টি। 

লোহাগাড়ার চিত্র
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন অতিঝুঁকিপূর্ণ তৈয়ব আশরাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সুবোধ কান্তি সিকদার দুজন ইলেকট্রিশিয়ান নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছেন। কেন্দ্রের প্রস্তুতিমূলক আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ভোটার লাইনে দাঁড়ানোর জন্যও কোনো নির্দেশিকা সাজানো হয়নি। লাগানো হয়নি সিসি ক্যামরা। এ কেন্দ্রে ইউনিয়ন, উপজেলা ও সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে প্রতিবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আজকের মধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা করছি। কক্ষ সংকট থাকায় কাপড় দিয়ে কক্ষ তৈরি করে বুথ বানানো হবে। আরেকটি অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর বিশাল পুকুরের পাড়ে জরাজীর্ণ ভবনটিই ভোটকেন্দ্র। এ কেন্দ্রে বুথ রয়েছে আটটি। 

আনোয়ারার চিত্র
আনোয়ারার দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান উপকূলীয় এলাকায়। দুর্গম হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রশাসনিক উপস্থিতি না থাকার সুযোগে এখানে কেন্দ্র দখল ও প্রভাব বিস্তারের ঘটে। অতীতের নির্বাচনেও এমন ঘটনার নজির রয়েছে। দক্ষিণ জুঁইদণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি সদর থেকে ১০০ মিটার দূরে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ কেন্দ্রে আগুন দিয়ে ব্যালট বাক্স পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাইফুল আলম বলেন, আনোয়ারায় ঝুঁকিপূর্ণ ২৬টি ভোটকেন্দ্রে  সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। 

সন্দ্বীপের চিত্র
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ আসনে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে মগধরা ইউনিয়ন কেন্দ্রে বিকেল ৩টায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। 

মিরসরাইয়ের চিত্র
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বড়তাকিয়া যাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২০০ গজ পূর্ব পাশে তিনতলা পাকা ভবনের এ কেন্দ্রে ৯টি বুথে ভোটাররা ভোট দিবেন। দুপুর ২টা ৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম কোথায় কীভাবে বুথ করা যায়, তা ঠিক করছেন। এলাকাটিতে বিএনপির প্রভাব বেশি থাকায় কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের চিত্র
বিকেলে ৩টায় সরেজমিনে সীতাকুণ্ড আসনের সীতাকুণ্ড সরকারি আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় পুলিশের একাধিক পিকআপ দাঁড়িয়ে। এখানে ২৪টি সিসি ক্যামরা দেখা গেছে। একই বিদ্যালয়ের ৩০০ মিটার পূর্বে অবস্থিত সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজে ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র। তবে ভোটারদের সাঁরিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর জন্য বাঁশবাঁধা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মাহিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১০৮টি কেন্দ্রের সবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিগুরুত্বপূর্ণ ৪৮টি। 

কর্ণফুলী থানার চিত্র
কর্ণফুলীর থানার অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের একটি পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর পুরো ভবন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত আছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক মাস্টার সাইফ উদ্দীন। আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ভবন সিসিটিভি ক্যামেরা আওতাভুক্ত আছে। তবে বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল দেখা যায়নি।

[প্রতিবেদনে তৈরিতে সহায়তা করেছেন মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি ও লোহাগাড়া সংবাদদাতা]

আরও পড়ুন

×