চরফ্যাসন
অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গহনা-টাকা লুট
প্রতীকী ছবি
চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৫০ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৫২
ভোলার চরফ্যাসনে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও গহনা-টাকা লুট করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন– নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল। ধর্ষণ ও লুটের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নুর করিম ও তার স্ত্রী পিয়ারা ওই গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি। ২০২৫ সালে ১০০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন পিয়ারা। তাদের মাদক ব্যবসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার। এ নিয়ে নুর করিমের পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। নুর নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে ওই গৃহবধূর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রায় সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী জানান, তার স্বামী কর্মসূত্রে চট্টগ্রামে থাকেন। তিন শিশুসন্তান নিয়ে একাই বাড়িতে থাকেন তিনি। জমি কেনার জন্য মঙ্গলবার ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা তুলে বাড়ি ফেরেন। বুধবার সকালে ওই টাকা জমির মালিককে দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন ভুক্তভোগী। ভুলবসত তিনি সিঁড়ির চিলে কোঠার গেট খোলা রেখেছিলেন। গভীর রাতে ঘরের মধ্যে মানুষের হাঁটার শব্দ পেয়ে সজাগ হন তিনি। এ সময় নুর ও সঙ্গীরা তার হাত ও মুখ বেঁধে স্বর্ণ ও টাকা কোথায় জানতে চান। তার গোঙানির শব্দে শিশুসন্তানেরা জেগে ওঠে। এরপর তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা ৪ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ অলংকার লুট করে নুর ও তার লোকজন।
ওই গৃহবধূ বলেন, শয়ন কক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে ঘরের সব মালপত্র তছনছ করা হয়। পরে সন্তানদের অন্য একটি কক্ষে আটকে নুর, হানিফ ও নাজমুল ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। তারা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীর সন্তানেরা তাকে হাতের বাঁধন খুলে উদ্ধার করেন। এরপর গৃহবধূর ডাক-চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। বুধবার দুপুরে খবর পয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাসন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর করিম বলেন, তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ রয়েছে। ওই রাতে আমার দোকানে চুরি হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়ে আমার জানা নেই।
চরফ্যাসন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, আমাদের কাছে এখনও কোনো খবর আসেনি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- দলবদ্ধ ধর্ষণ
- ভোলা
- চরফ্যাসন
