ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

১৭ বছর পর ভোট দিয়ে ৯৫ বছর বয়সী নারীর চোখে জল

এসেছিলেন দুই মুক্তিযোদ্ধা ছেলের সঙ্গে

১৭ বছর পর ভোট দিয়ে ৯৫ বছর বয়সী নারীর চোখে জল
×

পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে আকতারুন্নেছা

আহমদ উল্লাহ, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৩৫

দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়ার ৯৫ বছর বয়সী আকতারুন্নেছা যখন নিজের ভোটটি ব্যালট বাক্সে ফেললেন, তখন তাঁর চোখ ভিজে উঠেছিল প্রাপ্তির আনন্দে।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের সুচক্রদণ্ডী এলাকা থেকে দুই মুক্তিযোদ্ধা ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন তিনি। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও নাগরিক অধিকার আদায়ের জেদ তাঁকে আজ ঘরে আটকে রাখতে পারেনি।

ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আবেগঘন কণ্ঠে আকতারুন্নেছা বলেন, ‘অনেক বছর ধইরা ভোট দিতে চাইতাম, কিন্তু পারি নাই। আমার ছেলেরা গিয়ে দেখত আগেই কে বা কারা ভোট দিয়ে দিছে। ভোট নিয়ে নিত ডাকাতের দল। আজ প্রথমবার মনে হচ্ছে, আমার ভোট আমি নিজে দিয়েছি।’ 

ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন এই প্রবীণ। তিনি চান, তরুণরা যেন নির্ভয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আর কাউকে যেন ভোট দিতে গিয়ে ডাকাত বা জালিয়াত চক্রের ভয়ে শঙ্কিত হতে না হয়।

তাঁর বড় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া এবং ছোট ছেলে মুক্তিযোদ্ধা এস কে এমডি মুনির চৌধুরী জানান, ভোটার অধিকার ফিরে পাওয়ার এই তৃপ্তিই প্রমাণ করে একটি দেশের জন্য গণতন্ত্র কতটা জরুরি। 

কেন্দ্রে উপস্থিত থাকা অনেক তরুণ ভোটার ৯৫ বছরের এই বৃদ্ধার উপস্থিতি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে আজ নারী ও তরুণ ভোটারদের যে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, আকতারুন্নেছার উপস্থিতি সেই উৎসবের আমেজকে যেন আরও সার্থক করে তুলেছে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের ১১৩টি কেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সাতজন প্রার্থীর এই লড়াইয়ে আকতারুন্নেছার মতো মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এখন পর্যন্ত পুরো উপজেলাজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

আরও পড়ুন

×