ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাবা কর্নেল অলির আসনে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে ফেল করলেন ওমর ফারুক

বাবা কর্নেল অলির আসনে প্রথমবার প্রার্থী হয়ে ফেল করলেন ওমর ফারুক
×

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও ওমর ফারুক। ফাইল ছবি

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:১৭

চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জয়লাভ করেছে বিএনপি প্রার্থী এবং দুটিতে জামায়াত প্রার্থী। তবে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরীক দল এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুকের পরাজয়ের বিষয়টি চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওমর ফারুক শুধু এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্যই নন, তিনি দলটির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে। এবারের নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হয়ে বড় ছেলে ওমর ফারুককে নিজ এলাকা চট্টগ্রামের চন্দনাইশে প্রার্থী করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন ওমর ফারুক।

এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে অলি আহমদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবরে বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) গঠন করেন। বিএনপিতে থাকাকালে চার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে এলডিপি প্রার্থী হিসেবে নিজের এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অলির কারণে ছেলে ওমর ফারুককেও এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জামায়াত জোটে যোগ দেওয়ায় আসনটি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে দলের মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনে জিতে দলকে আসনটি উপহার দিয়ে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। নির্বাচনে বিএনপির নতুন মুখ তিনি।

অলি কারণে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি ‘প্রেস্টিজ ইস্যুর’ আসনে পরিণত হয়। ছেলে ওমর ফারুকের জয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালান অলি আহমদ। প্রচারণায় পরস্পরকে টার্গেট করে ‘বিষ বাক্য’ ছোড়েন বিএনপি ও এলডিপি নেতাকর্মীরা। এমনকি আক্রমনাত্মক ছিলেন অলি আহমদ ও জসিম উদ্দিনও। 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় এলডিপির কিছু নেতাকর্মীর আগে থেকেই সুসম্পর্ক ছিল। দলের লোকজন ও ভোটারদের একাংশ অলির জামায়াত জোটে যাওয়াকে ভালোভাবে নেননি। এটিকে ওমর ফারুকের পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ‘সুসম্পর্কের’ কারণে তাদের ভোট পেয়েছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এটাও নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের আরও একটি কারণ।

বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন জয় নিশ্চিত হওয়ার পর বলেন, এলাকার মানুষ পরিবর্তন চাইছিলেন। নির্বাচনের ফলাফল এই পরিবর্তনেরই অংশ। মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছেন। এখন তিনি উন্নয়নের মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিদান দিতে চান। 

তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে কিছু বলতে নারাজ এলডিপি প্রার্থীসহ দলটির নেতাকর্মীরা। চন্দনাইশের দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন এবং সাতকানিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের ১০০টি কেন্দ্রের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। মাত্র এক হাজার ২৬ ভোটে পরাজিত হন ওমর ফারুক।

জসিম উদ্দিন ও ওমর ফারুকসহ আটজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। অপর ছয় প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. বাদশা মিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াছ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মাওলানা মো. সোলায়মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুল হক চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবদুল হামিদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাফিকুল ইসলাম রাহী।

আসনটিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী। মিজানুল ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তবে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনের মাঠে বিএনপির দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার পরও এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুককে পরাজিত করে জসিম উদ্দিন জয়লাভ করে সবাইকে চমকে দেন।

আরও পড়ুন

×