ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কথা রেখেছেন চা শ্রমিকরা

কথা রেখেছেন চা শ্রমিকরা
×

ফাইল ছবি

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:৪০

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের ২৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের কথা রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চা বাগানের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস পেলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেবেন।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটের মাঠে। বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চা বাগানগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের হার তুলনামূলক কম ছিল। এবারের নির্বাচনে দৃশ্যপট বদলে যায়। চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত এ জনপদে ধানের শীষের জয়জয়কার।

চা শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা বঞ্চনার শিকার। রেশন, মজুরি ও মৌলিক সুবিধা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সলের বিজয় নিশ্চিত করতে তাঁর ছেলে সৈয়দ মো. শাফকাত আহমেদ ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ পরিকল্পিতভাবে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ২৮টি বাগানে ব্যাপক গণসংযোগ ও মতবিনিময় করেন। তারা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে গিয়ে সুখ-দুঃখের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এতে শ্রমিকদের মাঝে আস্থা তৈরি হয়।

চা শ্রমিকরা সাধারণত স্বল্প আয়ের মানুষ হলেও তারা পরিশ্রমী ও দক্ষ। অনেকে ইতোমধ্যে মাধবপুরের সায়হাম শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে তুলনামূলক সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের আশা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেলে তারাও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক বিমলা সাঁওতাল বলেন, আগেও তারা ভোট দিয়েছেন কিন্তু এবার প্রার্থীর লোকজন তাদের কাছে এসে কথা শুনেছেন। তাই তারা আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে। তিনি জানান, এবার নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো।

সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন দারিদ্র্যের চক্রে আটকে আছে। তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দল সরকার গঠনের পরেই চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

ভোটের দিন সকাল থেকেই ২৮টি বাগানে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন শ্রমিকরা। নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ এই ভোটদানই প্রমাণ করে, চা শ্রমিকরা এবার সত্যিই তাদের কথা রেখেছেন।

আরও পড়ুন

×