পৌরসভার হাটবাজার ইজারা
ফরিদপুরে দরপত্র জমায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ
ফরিদপুর পৌরসভার হাটবাজার ইজারার দরপত্র মঙ্গলবার উন্মুক্ত করা হয় সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফরিদপুর পৌরসভার হাটবাজার ইজারা টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে উন্মুক্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় একাধিক দরপত্রদাতাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া সকাল থেকে দরপত্র জমার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে সদলবলে অবস্থান নেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর পৌরসভা এলাকার ১৫টি হাটবাজার ও পৌর বাস টার্মিনালের বার্ষিক ইজারার লক্ষ্যে গত ১৮ জানুয়ারি দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত দরপত্র বিক্রির শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। এ সময়ের মধ্যে ৪১টি দরপত্র জমা পড়ে এবং গতকাল বিকেল ৩টায় দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়। দরপত্র দাখিলের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পৌরসভা কার্যালয়ে পৃথকভাবে দুটি বুথ রাখা হয়।
একাধিক বঞ্চিত ঠিকাদার ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন সকাল থেকে বুথ দুটির আশপাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অবস্থান করতে থাকেন। তাদের মধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে সদলবলে অবস্থান নেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ এবং পৌরসভা কার্যালয়ে অবস্থান নেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। কেউ দরপত্র জমা দিতে পৌঁছালেই গেট থেকে বাধা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে দরপত্র জমা দিতে না পেরে অনেকে ফিরে যান।
দরপত্র জমা না দিতে পেরে আনিসুজ্জামান তুহিন নামের একজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, দরপত্র জমা দেওয়ার শুরু থেকেই দুটি বুথ এলাকার সামনে ও আশপাশে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। উন্মুক্তভাবে আগ্রহী সবাই দরপত্র জমা দিতে পারলে আরও অনেকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এতে স্বচ্ছতা থাকত। তবে কারা বাধা দিয়েছেন সে বিষয়ে বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলাউদ্দিন ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দুপুর ১টার আগে টেপাখোলা গরুর হাটের দরপত্র জমা দিতে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর ভিড়। অফিসের প্রবেশপথেই শতাধিক ব্যক্তিকে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরিবেশ দেখে অস্বস্তিবোধ করায় জমা না দিয়েই ফিরে
আসেন তিনি।
বিষয়টি অস্বীকার করে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ বলেন, ‘আমি দুপুর সাড়ে ১২টায় নিজের ক্রয়কৃত দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলাম। পোলাপানের চাপাচাপির ভেতরে আমিইতো টেন্ডার ফেলাতে পারি না–এমন অবস্থা। ডিসি অফিসে আমি যাওয়ার আগে কিছু হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে আমি যাওয়ার পরে সবাইকে দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বলেছি। এছাড়া পৌরসভার ওই দিকে কী হয়েছে, না-হয়েছে বলতে পারব না।’
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়াও বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার নিজের একটি দরপত্র জমা দিতে পৌরসভায় গিয়েছিলাম। দরপত্র জমা দিতে কাউকে বাধা দেওয়ার কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।’
এসব বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সকলেই দরপত্র জমা দিয়েছেন, কোনো বাধার ঘটনার অভিযোগ পাইনি। তবে নির্ধারিত সময়ের পর একদল জমা দিতে এসেছিল, তাদেরটা নেওয়া হয়নি। এছাড়া সকল নিয়ম মেনেই স্বচ্ছভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।’
- বিষয় :
- দরপত্র
