ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কয়রায় পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তাদের পরিবারের বসবাস

কয়রায় পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কর্মকর্তাদের পরিবারের বসবাস
×

বছর তিনেক আগে পরিত্যক্ত ঘোষিত কয়রা উপজেলা পরিষদ কর্মকর্তাদের ডরমিটরি সমকাল

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভবনগুলোর নাম বাহারি। সুন্দরবনলাগোয়া জনপদে বলে এসব ভবনের নাম– সুন্দরী, গেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গরান, ধুন্দল ইত্যাদি। চার দশকের পুরোনো এসব ভবন পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় বছর তিনেক আগে। তবু বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন খুলনার কয়রা উপজেলার পরিষদের কর্মকর্তারা। ছয়টি ভবনে তাদের পরিবারের সদস্যদের থাকতে হয় ধসের আতঙ্ক নিয়ে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের থাকার জন্য ছয়টি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর পৃথক দুটি বাংলো নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া কর্মচারীদের থাকার জন্য আলাদা ডরমিটরি ভবন রয়েছে। বর্তমানে এসব ভবন বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

থাকার জায়গার অভাবে অনেক কর্মকর্তা এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। কোনো কর্মকর্তাকে পরিবার নিয়ে উপজেলা পরিষদের কয়েক কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া করে থাকছেন। সেখান থেকে নিয়মিত যাতায়াতেও পোহাতে হয় ঝক্কি। যে কারণে কর্মকর্তারা বদলি হওয়ার চেষ্টা করছেন। নতুন যারা আসছেন, তাদের অনেকেই এসব সমস্যার কথা চিন্তা করে যোগ দেওয়ার আগেই নেমে পড়েন বদলির তদবিরে।

সম্প্রতি ভবনগুলো ঘুরে প্রতিটির দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে মরিচাধরা রড বেরিয়ে গেছে। মেঝে ও সিঁড়ির একই অবস্থা। জানালা-দরজাগুলো অধিকাংশ ভাঙাচোরা। বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলে সব ভবনের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। অনেকেই পানি পড়া ঠেকাতে পলিথিন টানিয়েছেন। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুটি ভবন সম্পূর্ণ খালি। ফলে সেখানে আগাছা-পরগাছা জন্মেছে। অন্য চারটিতে থাকছে দু-একটি পরিবার।

উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, আবাসন সংকটের কারণে এখানে যোগদানের পরপরই বদলির চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে হয়। বর্তমানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা নেই এ কারণে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ জাবের বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারে থাকার মতো অবস্থা না থাকায় প্রথমে কয়েকদিন একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে। এখন অফিস থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে আছি। এতেও অনেক সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।’

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান আবাসন সংকটের কারণে পাশের উপজেলায় বাসা ভাড়া করে থাকেন। সেখান থেকে কষ্ট করে নিয়মিত অফিসে আসেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘বাইরে বাসা ভাড়া তুলনামূলক বেশি। এসব বাসা অফিস থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে। সেখানে বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যে কারণে পরিবার আনতে সাহস পাচ্ছি না।’
কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল ফজেলের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের থাকার জন্য প্রতিটি ভবনই বর্তমানে পরিত্যক্ত বলা চলে। নিরূপায় হয়েই সেখানে থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় তুলেছেন।
কয়রার ইউএনও মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ভবনগুলোর অবস্থা এতটা খারাপ যে সেখানে থাকার মতো পরিবেশ নেই। ভবনগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি অনেক আগেই রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। 

আরও পড়ুন

×