ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা

দুই বছরেও চালু হয়নি শোধনাগার সুপেয় পানির সংকট

দুই বছরেও চালু হয়নি শোধনাগার সুপেয় পানির সংকট
×

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:১৯ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১০:৪০

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় পানি শোধনাগারের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও  তা চালু হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সুপেয় পানি না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে পৌরবাসীর মধ্যে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বর্তমানে অলস পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করে পৌরসভাকে হস্তান্তর করলেও রহস্যজনক কারণে এটি অচল হয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে পৌরসভার পূর্ব বাইপাস মোড়ে ৩৪ শতক জমির ওপর ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে এই পানি শোধনাগারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং এম এ এস কনসোটিয়াম লিমিটেডের নির্মাণশৈলীতে এই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। ২০০ ঘনমিটার প্রতি ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন এই শোধনাগারটি চালু হলে অন্তত ছয়শ পরিবার সুপেয় পানির সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। অথচ নির্মাণকাজ শেষে দুই বছর পার হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ এটি চালু করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯০ ফুট গভীর নলকূপ বসিয়েও আয়রনমুক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছেন শোধনাগারটি চালু হবে, কিন্তু তা কেবলই আশ্বাসের বাণী হয়ে রয়ে গেছে। ২২ বছর পার হলেও পৌরবাসী ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, সড়কবাতি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

পৌরসভার আরেক নাগরিক জাফর আলী সরকার আক্ষেপ করে বলেন, এটি কেবল নামে মাত্র পৌরসভা। পানীয় জলের অভাবে পাবলিক টয়লেট, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজার এবং বাসস্ট্যান্ডে আসা মানুষজন চরম কষ্ট পোহাচ্ছেন। 

সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিবের মতে, পৌর নাগরিকরা কর দিতে অনাগ্রহী, কারণ তারা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। আবার সেবা না পাওয়ার পেছনেও পৌর প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতিই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া ছয় লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা এবং পৌর ড্রেন নির্মাণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন সংস্কার না করার কারণে শোধনাগারটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা জানান, প্রকল্পটির সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা চারশ থেকে বাড়িয়ে ছয়শ নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পানি সরবরাহ শুরু করা যাচ্ছে না।

এই সমস্যার জন্য পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলির দায়বদ্ধতার অভাব দেখছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানার জন্য বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

পৌর সহকারী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে শোধনাগারটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ড্রেন নির্মাণের সময় কেটে যায়। সেটি মেরামত না করলে পানি সরবরাহ সম্ভব হবে না। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের দায়িত্বটি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের।

আরও পড়ুন

×