ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া

সেতুর ওপর অবৈধ বাসস্ট্যান্ড

সেতুর ওপর অবৈধ বাসস্ট্যান্ড
×

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার গাজীখালী সেতু দখল করে গড়ে ওঠা বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় তোলা সমকাল

মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) 

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সেতু দখল করে গড়ে উঠেছে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। সেতুর একপাশ দখল করে রাখায় যানজট লেগেই থাকে সেতুর দুই পাশে। অথচ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এখন যানজটের ভোগান্তি নিত্যদিনের।

সাটুরিয়া উপজেলার একমাত্র নদী গাজীখালী। নদীটির ওপর ২০১৫ সালে নির্মিত হয় ৩০০ মিটার লম্বা দুই লেনের সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে কয়েক হাজার যানবাহন। উপজেলা সদর এবং মানিকগঞ্জ জেলা সদর ও রাজধানী ঢাকায় সড়কপথে যাতায়াতে এই সেতু একমাত্র মাধ্যম। প্রশাসনের কর্তাদের চোখের সামনেই সেতুটি দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় সেতুর পাশেই সাটুরিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিতে পল্লীসেবা বাসস্ট্যান্ড নামে একটি বাসস্ট্যান্ড চালু ছিল। বছর ছয়েক আগে বিদ্যালয়টি সরকারি হলে বাসস্ট্যান্ডটি উঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানকার গাড়িগুলোই পরে সেতুর ওপর দাঁড়ানো শুরু করে। একইসঙ্গে সেগুলো আগের মতো বিদ্যালয়ের জায়গাও ব্যবহার করছে। প্রভাবশালীদের যোগসাজশে সেতুর ওপর এই অবৈধ বাসস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এই অবৈধ বাসস্ট্যান্ডের বাস চলাচল দেখভাল করেন (সুপারভাইজার) হাসান আলী। তিনি জানান, প্রতিদিন সাটুরিয়া থেকে মানিকগঞ্জে অর্ধশতাধিক বাস চলাচল করে থাকে। প্রতিটি বাস থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। ওই চাঁদার মধ্যে সুপারভাইজার পান ২০ টাকা করে। আর ৩০ টাকা যায় স্কুল ফান্ডে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন মো. কুদ্দুস মিয়া। তিনি বলেন, শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা এই স্ট্যান্ড থেকে মানিকগঞ্জে চলাচল করে। প্রতিটি অটোরিকশা থেকে ৩০ টাকা চাঁদা নেন সুপারভাইজাররা। ২০ টাকা করে যায় বিদ্যালয়ে।

জানা যায়, স্ট্যান্ডের বাস ও অটোরিকশা সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের জায়গা ব্যবহার করায় বিদ্যালয়কে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। আর গাড়ির সিরিয়াল দেওয়ার লাইনম্যানরা নিয়ে থাকেন গাড়িপ্রতি ১০ টাকা করে। এই স্ট্যান্ড থেকে দিনে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা আদায় হয় বলে নিশ্চিত করেছে গাড়ির চালকরা। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাস ও অটোরিকশার চালক জানান, এই স্ট্যান্ড থেকে মাসে দেড় লাখ টাকার বেশি চাঁদা তোলা হয়। এই টাকা কিছু রাঘব বোয়ালরা গিলে খাচ্ছেন। নাম জানতে চাইলে চালকরা বলেন, তাদের নাম বললে এ রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। আর গাড়ি চালাতে না পারলে পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে মরবে।
সেতুর ওপর বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলার বিষয়ে সুপারভাইজর হাসান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেতুর ওপর সব বাস দাঁড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে একটি করে বাস স্কুলের জায়গায় দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানো হয়। একটি চলে গেলে আরেকটি বাস আসে। তাই সরকারি স্কুলকে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। সুপারভাইজার কুদ্দুস মিয়াও একই কথা বলেন।
সূত্র জানায়, সাটুরিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো বাস ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড নেই। ছোট-বড় মিলে ১০টি সড়কের ওপর অস্থায়ী স্ট্যান্ড রয়েছে। বালিয়াটি-সাটুরিয়া, সাটুরিয়া-পাকুটিয়া, দরগ্রাম-সাটুরিয়া, সাটুরিয়া-গোড়লা, ধানকোড়া-কৈট্টা, সাটুরিয়া-ধানকোড়া ও দরগ্রাম-মানিকগঞ্জসহ ১০টি অস্থায়ী স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার চাঁদা তোলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব চাঁদার টাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামেও উত্তোলন করা হয়। এসব চাঁদার টাকা কারা খাচ্ছে এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

সাটুরিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড থেকে স্কুলকে একটি টাকাও চাঁদা দেওয়া হয় না। আমি শুনেছি স্কুলের নাম ভাঙিয়ে কে বা কারা ওই টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আমি সাটুরিয়ার ইউএনওকে জানিয়েছি। 
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বুধবার (গতকাল) সবকটি অস্থায়ী স্ট্যান্ডের গাড়ির চালকদের থানায় ডেকে আনা হয়। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কাউকে একটি টাকাও চাঁদা দেবেন না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাকে জানাবেন। সাটুরিয়াকে চাঁদামুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।
সাটুরিয়ার ইউএনও মো. ইকবাল হোসেনের কাছে সেতুর ওপর গড়ে তোলা বাসস্ট্যান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিয়োগ করেনি। সেতুর ওপরকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।
 

আরও পড়ুন

×