৬৩ দরপত্র বিক্রি
কুষ্টিয়ায় ৩২ হাটবাজার ভাগাভাগিতে ইজারা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:১৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৩২টি হাট ও বাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাগাভাগি করে সমন্বয়ের অভিযোগ উঠেছে। ৩২টি হাটের বিপরীতে ৬৩টি দরপত্র বেচা হলেও শেষ দিন পর্যন্ত জমা পড়ে ৩০টি। বাকি ঠিকাদারদের মধ্যে কাউকে কাউকে দরপত্র জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদের নেতৃত্বে হাটবাজার ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এক সভায় তাঁর নেতৃত্বে কুষ্টিয়া সদর থানায় হামলা চালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। এর পর গত দেড় বছরে মাজেদের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার খাজানগর চাল মোকাম থেকে চাঁদাবাজিতেও তাঁর নাম এসেছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, দলবল নিয়ে মাজেদ এক পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
গত ২৮ জানুয়ারি সদর উপজেলায় ৩২ হাটবাজার নতুন করে ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল।
দরপত্র কিনেছিলেন এমন দুজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবার ৬৩টি দরপত্র বেচা হয়। কিন্তু জমা হয় ৩০টি। এতে প্রতিযোগিতা থাকছে না। কয়েকজন নেতার ইচ্ছামতো বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে। প্রতিযোগিতা থাকলে সরকার আরও বেশি রাজস্ব পেত। নির্বাচনের ভেতর কার্যক্রম চলায় অনেকে সময়মতো অংশ নিতে পারেননি। আবার যারা দরপত্র কিনেছিলেন, তারাও চাপে জমা দিতে পারেননি। ঝামেলা হতে পারে ভেবে সবাই সমঝোতা করে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, যেসব ব্যক্তি দরপত্র কিনেছিলেন, তাদের ফোন করে জমা না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। আব্দুল মাজেদ ও তাঁর লোকজন যোগাযোগ করেন। যারা দরপত্র কিনেছিলেন, তাদের চাপ প্রয়োগ করা হয়। অনেকে ভয়ে আর দরপত্র জমা দেওয়ার সাহস করেননি। বাকি কয়েকজন টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করে নেন।
সদর উপজেলায় বড় হাটবাজার চার থেকে পাঁচটি। এসব হাটের ওপর নজর থাকে সবার। ৩২টি হাটের মধ্যে পাঁচটি হাটে দুটি করে দরপত্র জমা পড়েছে। বাকিগুলোতে জমা পড়েছে একটি করে। এ ছাড়া ৯টি হাটবাজারে দরপত্র কেনা হলেও জমা পড়েনি। নতুন করে এসব হাটবাজারের দরপত্র ডাকা হবে।
এর মধ্যে সব থেকে বেশি আয় হয় খোর্দ্দ আইলচারা পশুর হাট (দরপত্র জমা পড়েছে দুটি), বালিয়াপাড়া পশুর হাট (একটিও জমা পড়েনি), মধুপুর কলার হাট (একটি), মধুপুর ইটভাটা পশুর হাট (একটি), বিত্তিপাড়া হাট (দুটি), লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ড হাট (দুটি), ঝাউদিয়া (দুটি), কবুরহাট (একটি) ও খাজানগর বাজার (দুটি দরপত্র জমা পড়েছে)।
একটি সূত্র জানিয়েছে, যে ৯টি হাটবাজারে একটিও দরপত্র জমা পড়েনি, সেগুলোতেও সমঝোতা হয়েছে। প্রতিযোগিতা হলে এখানে সরকারি যে সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছে, তার থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি রাজস্ব আদায় হতো। এবার সেটা হচ্ছে না। সরকারি দর থেকে সামান্য টাকা বেশি দিয়ে এসব হাটবাজার নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। এ কারণে প্রথম দফায় ৯টি হাটবাজারের বিপরীতে একটিও দরপত্র জমা পড়েনি। দ্বিতীয় দফায় ১ হতে ৮ মার্চ পর্যন্ত দরপত্র বেচা হবে। জমা দেওয়ার শেষ দিন ৯ মার্চ। এভাবে চতুর্থবার পর্যন্ত দরপত্র কেনা ও জমার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত বছরও যুবদল নেতা আব্দুল মাজেদ ও বিএনপির কয়েকজন মিলে হাটবাজার ভাগাভাগি করে নেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মাজেদ গালি দিয়ে বলেন, ‘এলাকায় যা-ই হোক না কেন, আমার নাম হয়। যারা জমা দেননি, তারা কেন জমা দেননি, সেটা তাদের ব্যাপার। আমি কোনো ঝামেলায় নেই। এসব বিষয়ে জানি না।’
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬৩টি দরপত্র বেচা হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ হাটবাজারের বিপরীতে একটি করে জমা পড়েছে। কয়েকটি হাটে দুটি করেও জমা পড়েছে। আবার একটিও জমা পড়েনি এমন বাজারও আছে। সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে হাটবাজার নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজস্ব দিয়েই হাটবাজার ইজারা
নিতে হবে।’
- বিষয় :
- দরপত্র
