ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, উৎকণ্ঠায় পরিবার
ছবি : সংগৃহীত
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৫:০২
যশোর শহরে জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ভেটেরিনারি ওষুধ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর স্ত্রী রেশমা খাতুন যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছে ভুক্তভোগী পরিবার। অপহৃত জাহাঙ্গীর (৪৮) তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে শহরতলী খোলাডাঙ্গা কদমতলা এলাকায় বসবাস করেন।
তিনি শহরের শংকরপুরের ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ‘আর আর মেডিকেল’ নামে ফার্মেসিতে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর গত সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকারে কয়েকজন এসে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরে ঘটনার রাতেই জাহাঙ্গীর আলমের ফোন নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রীর নম্বরে কল করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নইলে তাঁকে হত্যা করা হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, গত সাত বছর ধরে শংকরপুর ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ভেটেরিনারি ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন তাঁর স্বামী। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় মসজিদে তারাবি পড়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ইফতার নিয়ে দোকানে যান জাহাঙ্গীর। এরপর রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের নাম্বার থেকে তাঁর ফোনে একটি কল আসে, জাহাঙ্গীর তাঁকে জানায় কয়েকজন তাঁকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
তাঁকে বাঁচাতে হলে এক কোটি টাকা দেওয়া লাগবে। টাকা না দিলে অপহরণকারীরা তাঁকে খুন করবে। এতটুকু বলেই সে ফোন কেটে দেয়। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে। কোথায় ও কীভাবে টাকা পাঠাতে হবে, সেটা বলেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, তাদের দোকানের পাশেই ‘আমেনা ফার্মেসি’ নামে আরেকটা ভেটেরিনারির দোকান রয়েছে। কয়েক মাস আগে মার্কেট মালিক ইউসুফ সাহেবের সঙ্গে দোকানটির মালিক শাহ আলমের বিরোধ হয়। এরপর মার্কেট মালিক শাহ আলমের দোকানটি তাঁর স্বামীর কাছে ভাড়া দেন। এরপর দুটো দোকান একসঙ্গে মিলিয়ে বড় করে তাঁর স্বামী ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। এরপর থেকে শাহ আলম আর তাঁর স্বামীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও প্রাইভেটকার দিয়ে তাঁর স্বামীকে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তাঁর স্বামীর ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ঘটনার পর থেকে তিন মেয়েকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে স্বামীকে উদ্ধারের দাবি জানান তিনি।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে তাদের অভিযান শুরু হয়েছে। শিগগিরই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
