ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পদত্যাগের ৩ দিন পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে সম্প্রীতি বজায়ের আহ্বান

পদত্যাগের ৩ দিন পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে সম্প্রীতি বজায়ের আহ্বান
×

রাঙামাটি অফিস

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ২৩:৪০

পাহাড়ের মানুষকে শান্ত, ধৈর্য ধারণ, আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায়ের আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে সদ্য পদত্যাগ করা দীপেন দেওয়ান। একইসঙ্গে তিনি কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও পাহাড়ে সম্প্রীতি সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

পার্বত্যমন্ত্রী থেকে পদত্যাগের তিন দিন পর বুধবার রাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান পার্বত্যবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান। 

গত সোমবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। তার মন্ত্রিত্ব পুনর্বহাল রাখার দাবিতে রাঙামাটিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেন। এছাড়াও পাহাড়ের সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবী মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। 

বিবৃতিতে দীপেন দেওয়ান বলেন, মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে তিনি গভীরভাবে অবগত ছিলেন। তার বিশ্বাস পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার, এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। 

পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, আমার বাবা সুবিমল দেওয়ান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষায় তার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন।

বিএনপি তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। জীবনের অবশিষ্ট সময়ে এই দলের আদর্শ ও দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই তিনি দলের প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখবেন। এই দল তিনি কখনো ত্যাগ করবেন না।

তিনি পাহাড়ের জনগণকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মত-পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু সংঘাত নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক, উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক এবং এই অঞ্চল সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে উঠুক তার কামনা করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে যাওয়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিএনপির এ নেতা।

আরও পড়ুন

×