বিদ্যুতের নতুন দরে চাপ বাড়ল সিএনজি খাতে, কমিশন সমন্বয়ের দাবি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ২২:২৯
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সমন্বয় ও কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর বুধবার সমকালকে বলেন, গত কয়েক বছরের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে অতিরিক্ত ১.৬০ টাকা খরচ যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বাজার পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনায় কমিশন বা মার্জিন ন্যূনতম ৩ টাকা ৫০ টাকা বাড়ানো দরকার। সব মিলিয়ে মোট কমিশন ৫ টাকা ১০ টাকা বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে দাবি জানানো হলেও সরকার তা মানছে না।
এর মধ্যে বুধবার বিদ্যুতের দাম আরও ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন ৮ টাকা কমিশনের ৬ টাকাই বিদ্যুতে খরচ হবে। বাকি ২ টাকা দিয়ে ব্যবসা কিভাবে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের নতুন দাম বৃদ্ধির কারনে কমিশন ৬ টাকা বাড়াতে হবে।
সম্প্রতি সিএনজি মালিকদের বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন সমন্বয় করা হয়নি। এতে লাইসেন্স ফি, ইজারা ব্যয়, ব্যাংক সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন ও যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক স্টেশন এখন লোকসানে চলছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, ২০১৩ ও ২০১৭ সালের মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে প্রায় ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, খুচরা পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ প্রায় ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ মূল্যহার জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।
সংগঠনটির দাবি, সিএনজি খাত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বায়ুদূষণ কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশীয় গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে এ খাত অবদান রাখছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশন সমন্বয় না হলে অনেক স্টেশন টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
