ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন

জেলেরা ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কম পাচ্ছেন

ট্যাগ অফিসার উপস্থিত হওয়ার ১ ঘণ্টা আগেই চাল বিতরণ শুরু হয়

জেলেরা ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কম পাচ্ছেন
×

বরাদ্দের চাল নিতে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জেলেদের অপেক্ষা সমকাল

ভেদরগঞ্জ (শরীয়তপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক জেলের ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার, সচিব ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে প্রত্যেক জেলেকে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণে এমন অনিয়ম হয়েছে।

উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান ১ হাজার ৫০ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে ৮ থেকে ১০ কেজি চাল কম দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে চাল বিতরণের কথা, কিন্তু ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেদরগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার উপস্থিত হওয়ার আগেই সকাল ৭টা থেকে চাল বিতরণ শুরু করেন সেকান্দার খান ও তাঁর লোকজন। চাল মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে ইচ্ছেমতো বিতরণ করেন চেয়ারম্যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পান গণমাধ্যমকর্মীরা। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হককে জানালে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে এম রাফসান রাব্বি ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা এসে চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পান। এরপর তাঁরা দাঁড়িয়ে থেকে বাকি জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। ট্যাগ অফিসার উপস্থিত হওয়ার আগে চাল বিতরণ, ওজনে কম দেওয়াসহ অনিয়মের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খানকে জিজ্ঞাসা করা হলে সদুত্তর দিতে পারেননি। দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের জেলে রাকিব মাঝি মঙ্গলবার সকালে চাল নিতে যান। সকাল ১০টার দিকে পরিষদের সামনে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁকে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। চাল কম দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেছেন চাল কম এসেছে তাই কম দিয়েছেন।

মালবাজার এলাকার ফয়সাল হোসেন তাঁর বাবার নামের চাল নিতে পরিষদে যান। তিনি বলেন, তাদের বলা হয়েছে দুই কিস্তিতে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু চাল মেপে দেখা যায় ৭২ কেজি। চেয়ারম্যান বললেন উপজেলা থেকে চাল কম দিয়েছে, তাই তারাও কম বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কথা শুনে কিছু বলার সাহস পাইনি। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিক) আসার পরে দেখলাম ৮০ কেজি করে দিচ্ছে, বিষয়টা বুঝতে পারলাম না। অভিযোগ দিয়ে কি করব বলেন? অনিয়ম-দুর্নীতি কি বন্ধ হবে?’
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নুরুদ্দী বাজার এলাকার এক জেলে জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন তারা। এখন সংসার চলে না। সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন। অথচ জেলেদের জন্য বরাদ্দের ৮০ কেজি চালের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে ৭০-৭২ কেজি। এই অনিয়মের বিচার করবে কে? চেয়ারম্যান সেকান্দর খানকে বললে তিনি খারাপ আচরণ করেন। এই ভুক্তভোগী বলেন, ‘চাল কম দিলেও আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা প্রতিবাদ করলে এই এলাকায় থাকতে পারবো না।’

অভিযোগের ব্যাপারে প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খানের ভাষ্য, সঠিক মাপে চাল দেওয়া হচ্ছে, কোনো সমস্যা নেই। অনেকের চাল পরিমাপে কম হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে আমি কত কেজি চাল দিবো সেটা আমার ব্যাপার, আপনি ওজন মাপার কে? দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার জাহিদুর রহমান সরকার জানান, ২-৩ কেজি করে কম দিচ্ছেন, এর বেশি নয়। বোঝেন তো বস্তায় কিছু চাল কম থাকে। ২-৩ কেজি কম দিতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হকের ভাষ্য, অনিয়মের সংবাদ পেয়ে সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা সেখানে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তাদের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×