এক কেজি আলুর দামে মেলে না এক কাপ চা
গোবিন্দগঞ্জের কালিকাডোবা এলাকায় ক্ষেতে পড়ে আছে আলু সমকাল
গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাজারে এক কাপ চা খেতে গুনতে হয় ১০ টাকা। আর এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে ছয় টাকায়। একজন পুরুষ শ্রমিকের মজুরি দিতে হয় ৫০০ টাকা। এক মণ আলু বিক্রি করেও শ্রমিকের মজুরির টাকা উঠছে না। কথাগুলো বলছিলেন আলুচাষি আবদুল বাছেত। তিনি বলেন, কৃষকের সব ধরনের ফসল আবাদে লোকসান গুনতে হয়। অনেক কৃষক প্রণোদনাও পান না।
চলতি মৌসুমে আবারও লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা। নতুন আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পাঁচ থেকে ছয় টাকায়।
এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত পাঁচ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম লোকসান গুনছেন চাষিরা।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল গ্রামের আলুচাষি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো ফলন পেয়েছেন। দুই বিঘায় ৮০ থেকে ৮৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। আলুর ধরন অনুযায়ী প্রতি বস্তা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও উৎপাদন খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ২৭ থেকে ৩২ হাজার টাকা।
একই এলাকার আরেক চাষি সাইদুর রহমান জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। জমি থেকে আলু উত্তোলন করতে অনেক খরচ হচ্ছে। সাড়ে ছয় টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। ফলে তাঁর খরচ তোলাই দুষ্কর হয়ে গেছে।
আবুল হোসেন নামের আরেক চাষি বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে; কিন্তু বিক্রি করে পাওয়া গেছে মাত্র ২০ থেকে ২৩ হাজার টাকা। তাঁর ভাষ্য, বিঘায় ২৭ হাজার টাকা লোকসান হলে কৃষকের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।
আলুচাষিদের অভিযোগ, ৬৫ কেজির বস্তা নেওয়া হলেও ৬০ কেজির দাম দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় পাঁচ কেজি করে অতিরিক্ত আলু দিতে হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের লাভ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এ ব্যবস্থা ‘ঢলন’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ২০০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা।
আলু ব্যবসায়ী মাজ্জু মিয়া বলেন, গতবারের মতো এবারও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। অনেকেই ঋণ করে জমির পরিমাণ কমিয়ে আবার আলু চাষ করেছেন; কিন্তু এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষিরা বলছেন, এখন আলু তোলা শেষ পর্যায়ে। ৮-১০ দিন আগে গোবিন্দগঞ্জে জমির আলু উঠতে শুরু করে, তখনও বাজারদর ছিল ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি, যা এখন অর্ধেকে নেমেছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, কৃষি বিভাগ চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। বাজারদর নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগের দায়িত্ব।
- বিষয় :
- আলুর দাম
