খাল খননে সহযোগিতার আশ্বাসে তথ্য চাওয়া হচ্ছে ফেসবুকে
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার কয়রায় সরকারি খাল খনন করে দেওয়ার আশ্বাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তথ্য চাওয়া হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফেসবুকে এ ধরনের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। এসব মানুষের উদ্দেশ্য নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অনেকেই ফেসবুক পোস্টের নীচে মন্তব্যের ঘরে খালের অবস্থান, মৌজা ও দাগ নম্বর দিয়ে তা খননের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। আবার অনেকে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারী সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কাছে খনন উপযোগী খালের তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে উপজেলা পর্যায়ে খাল খননের ব্যপারে তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় খাল খনন করে দেওয়া হবে বলে আগ্রহীদের যোগাযোগের জন্য ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন একটি পক্ষ।
গত ১ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মহারাজপুর ইউনিয়নের যে সমস্ত বিলের খাল কাটা প্রয়োজন সেই খালের নাম, দাগ ও সিট নাম্বার উল্লেখ করে আমাকে জানাতে পারেন।’
আবু হাসান নামে আরেকজন তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন, ‘কয়রা উপজেলার যে সমস্ত বিলের খাল কাটা প্রয়োজন তার দাগ, সিট নাম্বার উল্লেখ করে জানাতে পারেন। আমরা খাল কাটার ব্যবস্থা করব।’
কেবল এ দুই ব্যক্তি নয়। খাল খননের জন্য গত কয়েকদিনে এভাবে ফেসবুকে তালিকা চাইছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবি, জনপ্রতিনিধি ও কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন।
কয়রা উপজেলার ষোলহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম সুন্দরবন কুরিয়ার নামে একটি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে খাল খনন করে দেওয়া হবে বলে খালের তথ্য চেয়েছেন। জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে তিনি এলাকার খাল খননের ব্যবস্থা করতে পারবেন। এ জন্য ফেসবুকে তথ্য চাইছেন।’
একই কথা জানিয়েছেন আবু হাসান নামে একজন ইউপি সদস্য। তিনি উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি সংস্থা থেকে এলাকার খাল খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থার হয়ে তিনি ফেসবুকে খালের তথ্য চেয়েছেন।’
বিএনপি নেতা ও কয়রা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মওলা বকস বলেন, সরকারিভাবে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই মুহুর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু লোক অতি উৎসাহী হয়ে তালিকা চাইতে শুরু করেছেন। এর পিছনে তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, কৃষিতে সেচকাজে ব্যবহার করা যায় এমন খাল পুনঃখননের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য সাধারণ মানুষের কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এলাকার অনেক বেসরকারি সংস্থা খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তাদের কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খালের তথ্য চাইছেন কিনা তা তাঁর জানা নেই।
- বিষয় :
- খাল
