সেচ সংকটে ৩০ হাজার হেক্টর বোরো জমি অনাবাদি
সেচ সংকটের কারণে অনাবাদি কেওলার হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ফসলের জমি সমকাল
মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
গ্রামীণ প্রবাদ মেনে মাঘের কালে মেঘের দেখা মেলেনি। যার কারণে শঙ্কিত কৃষক। সেই ধারা অনুসরণেই যেন দিন দিন তীব্র হচ্ছে সেচ সংকট। এতে করে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা হাত ফসকে যাচ্ছে। উৎপাদন নিয়েও শঙ্কায় কৃষক।
বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মৌলোভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন দেখে এসে এমন তথ্যই তুলে ধরেছেন সমকালের দুই সংবাদ প্রতিনিধি। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, মাঘের শেষ হলো মাত্র। প্রকৃতির নিয়মে মাঘের শেষে বর্ষার মেঘের আগাম বার্তা মেলে। যেখানে হালকা বর্ষণে বৃষ্টির আভাস পায় কৃষক। এবার সেই চিত্র ভিন্ন।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বৃষ্টিহীন অবস্থার কারণে সেচের পানির তীব্র সংকটে পড়েছে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা। জেলার বিভিন্ন হাওর ও হাওরবহির্ভূত এলাকায় পানির অভাবে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রায় ৬০ হাজার কৃষক চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
সরেজমিন জেলার সাতটি উপজেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘি ও কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হাওরাঞ্চলের মতো নন-হাওর এলাকাতেও বোরো উপযোগী জমিতে তীব্র পানির সংকট রয়েছে। অনেক কৃষক পানির অভাবে চারা রোপণই করতে পারেননি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ হাজার ৩৪৫ হেক্টর হাওর এলাকায় এবং ৩৫ হাজার ৫৫ হেক্টর নন-হাওর এলাকায়। এসব এলাকায় তীব্র সেচ সংকট রয়েছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, যেসব এলাকায় সেচনালা রয়েছে, সেখানে কিছুটা হলেও কৃষকরা পানি পাচ্ছেন। সেচনালায় কোনো সমস্যা হলে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি।
অন্যদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানির সংকট রয়েছে। অনেক নালা ও ছড়া দিয়ে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে না। এ ছাড়া নলকূপের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়।
- বিষয় :
- সেচ পদ্ধতি
