ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হাট ইজারা নিয়ে তোলপাড়

জামায়াত-বিএনপি নেতার দরপত্র বাতিল

জামায়াত নেতা জমা দেননি কোনো নথিপত্র

জামায়াত-বিএনপি নেতার দরপত্র বাতিল
×

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার পশুর হাটসহ ১০টি হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দেওয়ায় ১০টির মধ্যে ৮টি হাটের দরপত্রই বাতিল ঘোষণা করেছে মূল্যায়ন কমিটি। এর মধ্যে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত পশুর হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা বিএনপি নেতার আবেদনও বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এক বছর মেয়াদি হাটগুলো ইজারার জন্য গত মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, দরপত্রের সঙ্গে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সত্যায়িত ছবি ও নাগরিক সনদসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যাচাই-বাছাইকালে দেখা যায়, সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি 
আহসান হাবিব লিটন প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফয়জুল ইসলামের সব নথিপত্র ঠিক থাকলেও শুধু ছবি সত্যায়িত না থাকায় কারিগরি কারণে তাঁর আবেদনটিও বাতিল করে মূল্যায়ন কমিটি। মাত্র দুটি হাটের দরপত্র সঠিক পাওয়ায় সেগুলোকে বহাল রাখা হয়েছে। বাকি ৮টি হাটের জন্য আগামী ১৬ মার্চ পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পশুর হাট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই মনিরামপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ ওঠে, সর্বোচ্চ দরদাতার নথিপত্র না থাকা সত্ত্বেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাঁকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ করছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রোববার রাতেই চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন। পৌরসভার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে আহ্বায়ক এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খানকে সদস্য করে এ কমিটি করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, সোমবার দুপুরে কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সব দরপত্র পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। তিনি বলেন, ‘পশুহাটসহ ৮টি হাটের দরপত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
পৌর প্রশাসক ও ইউএনও সম্রাট হোসেন জানান, ‘দরপত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম করার সুযোগ নেই। শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতেই মূল্যায়ন কমিটি করা হয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে বাতিলকৃত ইজারাদারদের জন্য আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আপিলের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা আহসান হাবিব লিটনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দরদাতা বিএনপি নেতা ফয়জুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই আপিল করবেন।

আরও পড়ুন

×