বাজারে মাছের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ খামারি
দোয়ারাবাজারের সুরমা ইউনিয়নের আলীপুরের খামারিরা পুকুর থেকে মাছ তুলছেন সমকাল
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
দোয়ারাবাজার উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। শুরুর দিকে পরিস্থিতি কিছুটা ঠিক ছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে মাছ উৎপাদনে ভাটার মুখে। এতে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে খামারিদের। বর্তমানে মৎস্য খামার চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দোয়ারবাজারের অধিকাংশ খামারি। অথচ এক সময় বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মাছ কিনতে গেলে হিমশিম খেতে হতো। এমনটাই জানিয়েছেন মাছ চাষিরা।
মূলত মাছ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ বিক্রি না হওয়ায় খামারিরা হতাশ। স্থানীয় মৎস্য বিভাগ বলছে, উপজেলার প্রান্তিক মাছ চাষিরা এ সময়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বাজার ব্যবস্থায় অনেকাংশে দায়ী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক মাছের খামারি আছেন। এর মাঝে মানসুরমা ইউনিয়নের আলীপুর, টেংরাটিলা, নূরপুর, গিরিশনগর, টিলাগাঁও, মহব্বতপুর এবং সদর ইউনিয়নের টেবলাই ও লামাসানিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রান্তিক মৎস্য খামারির সংখ্যা বেশি।
এসব মৎস্য খামারিরা কেউ নিজের পুকুর বা ডোবায় আবার সরকারি জমি লিজ নিয়ে তেলাপিয়া, কার্ফু ও রুই মাছ চাষ করছেন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক পুকুর ও ডোবায় মাছ চাষ করছেন স্থানীয়রা। এসব খামারে উৎপাদিত মাছের মধ্যে তেলাপিয়া বেশি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় খামারিরা জানিয়েছেন, মাছের পোনা ক্রয়, খাদ্য, পরিচর্যা ও বিদ্যুৎ বিলসহ মাছ চাষে খরচ আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। সবমিলিয়ে কেজিপ্রতি মাছের উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। কিন্তু বর্তমান বাজারে পাইকারি পর্যায়ে অনেক সময়ই তেলাপিয়া মাছ ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করায় চাষিদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। মাছের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এখন হতাশায় দিন পার করছেন স্থানীয় খামারিরা।
উপজেলার আলীপুর গ্রামের মাছ চাষি আব্দুর রহিম বলেন, চলতি বছর মাছ উৎপাদনে খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু মাছ বিক্রির সময় ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। ১৪০ টাকা পাইকারি দরে মাছ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না।
টেংরাটিলা গ্রামের চাষি শের মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, মাছের খাবারের দাম অনেক বেশি। আমরা যে দরে মাছ বিক্রি করছি, তাতে আমাদের লাভ নয়, পুঁজি বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছের খাবারের দাম, ওষুধের দামসহ মাছের চাষের আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিরা আশানুরূপ লাভবান হতে পারছেন না।
বৈঠাখাই গ্রামের মাছ বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, বাজারে এখন বিল-হাওরের দেশি মাছের চাহিদা থাকায় চাষের তেলাপিয়া মাছের চাহিদা বর্তমানে কমেছে। এ ছাড়া সব বাজারেই তেলাপিয়া মাছের সরবরাহ এখন বেশি। সারাদিন বসে থেকেও আগের মতো চাষের মাছ বেচাকেনা কম হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হানিফ উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, প্রান্তিক মাছ চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার জন্য বাজার ব্যবস্থা অনেকাংশে দায়ী। বিশেষ করে অধিকাংশ খামারিরা টার্গেট করে মাছ চাষ করেন। ফলে একই সময়ে বাজারে মাছের সরবরাহ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে যায়। এ জন্য মার্কেটিং সিস্টেমকে নতুনভাবে সাজাতে আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
- বিষয় :
- মাছ ধরা
