ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি হোতারা মামলা বাণিজ্যে

ঘটনাস্থলে না থেকেও আসামি হোতারা মামলা বাণিজ্যে
×

 ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৬ | ১২:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় পর্যায় থেকে পৌঁছেছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত চোরাকারবারিদের অনেককেই আসামি না করায় মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একই মামলার কয়েকজন আসামি।
মামলায় মুল্লুক চান নামে এক ব্যক্তি কয়েকজন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং নিরীহ ব্যক্তিদের এ মামলায় জড়ানো ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলার রূপনগর গ্রামের একটি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন এ মামলার আসামি ডালিম মিয়া, সাইফুল মিয়া, সুহেল রানা ও করিম মিয়া।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রূপনগর গ্রামের সামনে টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে ট্রলার দিয়ে চোরাই গরু নিয়ে যাওয়ার সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সংষর্ঘে বিজিবির একজন সদস্য আহত এবং ট্রলারের শ্রমিক ওমর আলী নিখোঁজ হয়। পরদিন ওমর আলীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর পরদিন বিজিবির বাঙালভিটা বিওপির সুবেদার সিগন্যাল মো. ইসরাইল খান বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মধ্যনগর থানায় একটি মামলা করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের আরাফাত আলীর ছেলে মুল্লুক চান আসামি সাইফুল মিয়া, জিল্লু মিয়া ও লায়েছ মিয়াসহ অন্য আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের মামলায় জড়ানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মুল্লুক চান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাইনম্যান। তাই তাকে আসামি করা হয়নি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

আসামি ডালিম মিয়া বলেন, ওইদিনের চোরাচালানটি ছিল মুল্লুক চান, তাঁর ভাই তারেক চান ও মিয়া চান এবং তাদের ব্যবসায়ীদের অংশীদার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত হাছন আলীর ছেলে হাফিজ ও কলতাপাড়া গ্রামের মৃত মঞ্জু মিয়ার ছেলে আরশাদের। অথচ তাদের আসামি করা হয়নি। আসামি করিম মিয়া বলেন, ঘটনার রাতে তিনি ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে জানতে পারেন তিনি মামলার আসামি।  

আসামি সাইফুল মিয়া বলেন, তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে মুল্লুক চান তাদের এলাকার আতিক নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা নিয়েছেন। এর পরেও রেহাই মেলেনি। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধ্যনগর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, ওই এজাহারের সবাই চোরাকারবারি। কেউ নির্দোষ হলে সরাসরি বিজিবির সঙ্গে যেন যোগাযোগ করে। আতিক বলেন, নাঈম (মামলার আসামি নূরুল আমিনের ছেলে) নামে একজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা মুল্লুক চানকে দিয়েছি।

আরও পড়ুন

×