ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বকশীগঞ্জে পাম্পে নেই জ্বালানি তেল, ভোগান্তিতে চালক-কৃষক

বকশীগঞ্জে পাম্পে নেই জ্বালানি তেল, ভোগান্তিতে চালক-কৃষক
×

তেল সরবরাহ না থাকায় বন্ধ রয়েছে বকশীগঞ্জের একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি। ছবি: সমকাল

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১৫:৩৭

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত তিনদিন ধরে উপজেলার একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। কোথাও নেই ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। এমনকি খোলা বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না জ্বালানি তেল। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাকসহ যানবাহন চালক ও কৃষকরা। পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনের মালিক জানিয়েছেন, সরবরাহ নেই। তাই, পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন ধরেই চলছে এ সংকট। এ পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে জ্বালানি তেল আতঙ্ক। সুযোগ পেলেই মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে, চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ কম পাওয়ায় জ্বালানি তেল বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প মালিকরাও। 

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় বকশীগঞ্জের একমাত্র মেসার্স পরেশ চন্দ্র সাহা ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ দেখা যায়। পাম্পের সামনে রশি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। বাইরে তেলের জন্য অপেক্ষা করছে কয়েকটি বাইক ও প্রাইভেটকার। কয়েকজন কৃষক বসে আছেন ডিজেলের আশায়। 

ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার উত্তম সাহা জানান, চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। দুইদিন বন্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার রাতে যে তেল দেওয়া হয়েছিল তা বুধবার বিকেলেই শেষ হয়ে গেছে। উপচে পড়া ভিড়ের কারণে হিমশিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি করতে হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই আবার পাম্পে কোনো জ্বালানি তেল নেই। টাকা, গাড়িসহ লোক পাঠিয়েছি। কিন্তু ডিপো থেকেই তেল দেওয়া হচ্ছে না। ডিপোতেই নাকি দীর্ঘ লাইন। কবে পাবেন সেটাও অনিশ্চিত। তাই বাধ্য হয়েই পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, তেল না থাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে। কর্মচারীদের বসে বসে বেতন দিতে হচ্ছে। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।  

পাম্পের সামনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেল আরোহী মোরশেদ আকন্দ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে তাকে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে হয়। পাম্প বন্ধ থাকার কারণে গত দুইদিন তিনি তেল নিতে পারেননি। ফলে তার কাজের বিঘ্ন ঘটছে। সকাল থেকেই পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তেল নেই বলছেন কর্মচারীরা। 

দেওয়ানগঞ্জের তারাটিয়া থেকে এসেছেন আবদুর রহিম নামে একজন শিক্ষক। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে জামালপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছেন। পথে তার বাইকের তেল শেষ হয়েছে। এদিকে পাম্প বন্ধ, কোথাও তেল নেই। তাই বাধ্য হয়ে গাড়ি গ্যারেজে রেখে সিএনজি দিয়ে জামালপুর যাচ্ছেন। 

মেরুরচর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আলমাছ আলী বলেন, ডিজেলের জন্য তার শ্যালো মেশিন বন্ধ রয়েছে। ফলে ধানের জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। বকশীগঞ্জে কোথাও ডিজেল পাননি। সঠিক সময়ে ডিজেল না পেলে তার ফসলের ক্ষতি হবে বলে জানান।  

প্রাইভেটকার চালক হাসান বলেন, ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ একটু বেশি থাকে। যে কারণে ভাড়া হয় বেশি। তেল না থাকায় যাত্রী পেলেও ছেড়ে দিতে হয়েছে। 

জননী বাসের পরিচালক লিয়াকত হোসেন বাবুল বলেন, সামনে ঈদ। এ সময় জ্বালানি সংকট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পরিবহন মালিকরা। তেল না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে যাত্রীরাও ভোগান্তি পোহাবেন। 

বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধায় পড়েছেন পরিবহন মালিকরা। দ্রুত এর সমাধান হবে। তবে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×