ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ওষুধের দোকানেও পেট্রোল এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি

ওষুধের দোকানেও পেট্রোল এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি
×

বকশীগঞ্জ উপজেলা মোড়ে ওষুধের দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে সমকাল

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বকশীগঞ্জে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল, অক্টেন ও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। মুদি দোকান, কাঁচামালের দোকান, এমনকি ওষুধের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে এসব বিপজ্জনক জ্বালানি।

সরকার অনুমোদিত পেট্রোল পাম্প ছাড়া পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ বিক্রির বিধান না থাকলেও বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও বোতলে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে দেদার। যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ও দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে প্রাণহানি ঘটার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১১৭ টাকা লিটার হলেও বাইরে বোতলে রাখা পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকায়।
জানা গেছে, সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নীতিমালা রয়েছে। বিধিমোতাবেক সিলিন্ডার মজুত রেখে বিক্রির ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। পেট্রোল বিক্রির ক্ষেত্রেও রয়েছে নীতিমালা। দাহ্য পদার্থ ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করার ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি মজুত রাখতে হবে। মজুত করা স্থানের কাছাকাছি আলো বা তাপের উৎস থাকা যাবে না। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মধ্যবাজার, পুরোনো গোহাটি, বাসস্ট্যান্ড, মালিবাগ মোড়, কামারপট্টি মোড়, উপজেলা মোড়, মাস্টারবাড়ি বাজার, মৌলভীবাজার, টিকরকান্দি বাজার, ধুমালীপাড়া মোড়, দক্ষিণ বাজার মোড়ে দেদার বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস ও পেট্রোল। ওষুধের দোকান, কম্পিউটারের দোকান, মুদি দোকান, ক্রোকারিজের দোকান, ফলের দোকান, হোটেল, সেলুন, লাকড়ির দোকান, মোটরসাইকেলের গ্যারেজ, কাঁচামালের দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, মেশিনারি দোকান ও চা দোকানে বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ও পেট্রোল। দোকানের সামনে, এমনকি ফুটপাতে সিলিন্ডার ফেলে এবং তার ওপর পরিত্যক্ত বোতলে পেট্রোল রেখে নির্বিঘ্নে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। পৌরসভার বাইরে হাটবাজারেও বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল। রাখা হচ্ছে খোলা জায়গায়।
জব্বারগঞ্জ বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রেতা ইয়াকুব জানান, দোকানের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেল, পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে আসছেন তিনি। তদারকি করতে আজ পর্যন্ত কেউ আসেননি বলে দাবি তাঁর।

পৌর শহরের ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী আকরাম হোসেনের ভাষ্য, তাঁর ট্রেড লাইসেন্স আছে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে লাইসেন্স বা অনুমোদন নিতে হয় এই বিষয়ে কিছু জানেন না তিনি।
মানবাধিকার কর্মী মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী জানান, এই উপজেলায় মাত্র একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। তবে তিন শতাধিক স্থানে পেট্রোল ও এলপি গ্যাস পাওয়া যায়। দায় এড়াতে পারেন না পেট্রোল পাম্প মালিক। কারণ পাম্প থেকেই খোলা বাজারে পেট্রোল চলে যায়। এলপি গ্যাস ডিলারও একই কাজ করেন। তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। 
বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আব্দুল কুদ্দুসের ভাষ্য, সড়কের ধারে সাজিয়ে রেখে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল বিক্রি বিপজ্জনক। ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। এলপি গ্যাস ও পেট্রোল বিক্রি করতে হলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স, বিস্ফোরক ও জ্বালানি লাইসেন্স থাকতে হবে। অনুমোদনবিহীন কেউ এলপি গ্যাস ও পেট্রোল বিক্রি করতে পারবে না।
ইউএনও আবদুল হাই জানান, দাহ্য পদার্থ বিক্রির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। নিয়মনীতি না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×