ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ কড়াই কুড়িগ্রামে

‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ কড়াই কুড়িগ্রামে
×

বিশাল আকৃতির কড়াইয়ে রান্না হচ্ছে এক লাখ মানুষের ইফতারি। কুড়িগ্রাম সদরের চর সুভারকুটি ইউনিয়নে শনিবার কড়াইটি উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সমকাল

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৭ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ | ১৩:২৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের চর সুভারকুটি ইউনিয়নে উদ্বোধন হলো বিশ্বের ‘বৃহৎ’ কড়াই। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত থেকে এ কড়াই উদ্বোধন করেন। পরে কড়াইটিতে এক লাখ মানুষের জন্য ইফতারি রান্না করে স্থানীয় ১০০টি মসজিদের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। 
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জানায়, মূলত দুর্যোগকালীন অসহায় মানুষের জন্য এই কড়াইয়ে খাদ্য রান্না করে বিতরণ করা হবে। কড়াইটির আয়তন ৭৭০ বর্গ ফুট, ব্যাস ৩১.৫ ফুট ও গভীরতা ৪.৫ ফুট। ২২টি চুলার ওপর এই কড়াই রেখে এতে একসঙ্গে এক লাখ মানুষের খাবার রান্না করা যায়। এতে একবারে ব্যবহার করা যায় প্রায় ৭ টন চাল, ৩ টন সবজি, প্রায় ৮০০ লিটার ভোজ্যতেল, প্রায় দেড় টন ডালসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা।

এর আগে ভারতের আজমির শরিফের একটি কড়াইকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কড়াই হিসেবে গণ্য করা হতো। কড়াইটির ব্যাস প্রায় ৩৭ ফুট এবং গভীরতা ৩ মিটারের বেশি। তবে কুড়িগ্রামের কড়াইটি বর্তমানে সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা আরও জানান, বৃহৎ এই কড়াইটি তৈরিতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছে। বিশেষভাবে নকশা ও শক্তিশালী ধাতব কাঠামো ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না করা যায়। দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কড়াই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, হাসিবুর রহমান প্রমুখ। 
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ অতি দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোর অন্যতম। তাই বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই এলাকার দরিদ্র মানুষের ক্ষুধামুক্তি ও দুর্যোগে ব্যবহার করার জন্য এখানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ একটা কড়াই নির্মাণ করেছে। 

অনুষ্ঠানে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যাসহ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এগিয়ে এসেছে। সেটি খুবই ভালো কাজ। বিশেষ করে বন্যাকবলিত মানুষের খাবারের সমস্যা সমাধানে স্থায়ী একটি লজিস্টিকস সাপোর্ট যে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দিচ্ছে সেটি এ অঞ্চলে বন্যার সময় খুবই উপকারে আসবে।’
অল্প সময়ের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রংপুর অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে। গতকাল কড়াই উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন

×