ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফুটপাতে ক্রেতার ভিড় বিক্রিও বেশি

ফুটপাতে ক্রেতার ভিড় বিক্রিও বেশি
×

গাইবান্ধায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ঈদ মার্কেট এখন অনেকটাই শহরের ফুটপাতজুড়ে। ছবিটি শহরের পুরাতন জেলখানা মোড় থেকে তোলা সমকাল

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল ফিতরের আর কয়েকদিন বাকি। এ উৎসবকে ঘিরে গাইবান্ধায় জমে উঠেছে কেনাকাটা। শহরের নামিদামি শপিংমলগুলোতে সামর্থ্যবানের ভিড় থাকলেও, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ঈদ মার্কেট এখন অনেকটাই শহরের ফুটপাতজুড়ে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে ভূমিকা রাখছে এই ফুটপাতের বাজার। 

নদীভাঙন আর মঙ্গাপীড়িত জেলা গাইবান্ধা। এই অঞ্চলের ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিকভাবে এই জেলা তেমন উন্নত নয়। ঈদের আগে চাকরিজীবীরা হাতে বেতন ও বোনাস পেলেও অর্থ সংকটে নিম্ন আয়ের মানুষের ঈদের কেনাকাটা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। 
শহরের পুরাতন জেলখানা মোড়ে ঈদের কেনাকাটা করতে পৌরসভার তিনগাছ তলা এলাকা থেকে এসেছেন দিনমজুর মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘বড় দোকান থেকে কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। এখানে কম দামে ভালো কাপড় পাওয়া যায়। তাই এসেছি।’
গাউনপট্টি মার্কেটটি কম দামের পোশাকের জন্য পরিচিত। সেখানে কেনাকাটা করতে ২০০০ টাকা নিয়ে এসেছেন হাফেজা বেগম। তিনি বলেন, ‘হামরা তো আর বড়লোক নোয়াই (নই), যে বড় দোকান থেকে কিনবো। হামরা গরিব মানুষ, যে ট্যাকা আনচি, এই কমদামি মার্কেট (এখানে) থাকি কাপড় কেনা নাগবে (লাগবে)।’
চৌধুরী শপিংমলের আহান ফ্যাশনের কর্ণধার রনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে বিক্রি মোটামুটি ভালো। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের দাম বেশি। অনেক ক্রেতা দাম বেশি শুনেই ফুটপাতের দোকানে চলে যায়।

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকের পক্ষেই বড় বড় শপিংমলে কেনাকাটা করা সম্ভব হয় না। ফলে, ফুটপাতের স্বল্পমূল্যের কাপড় ও পণ্যের দোকানগুলোই হয়ে উঠেছে তাদের একমাত্র ভরসা। শহরের ডিবি রোড, নিউমার্কেট, দাশ বেকারি মোড়, স্টেশন রোডের দুই পাশজুড়ে এখন সারি সারি অস্থায়ী দোকান। শিশুর ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, সালোয়ার-কামিজ, জুতা, স্যান্ডেল, ব্যাগ, বেল্ট থেকে শুরু করে টুপি, আতর ও জায়নামাজ পর্যন্ত মিলছে হাতের নাগালে। কম দামে পছন্দের জিনিস পেয়ে খুশি ক্রেতারা। বিক্রেতারাও সন্তুষ্ট বেচাবিক্রি নিয়ে।
শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। পা ফেলার জায়গা নেই। সন্ধ্যায় ইফতারের পর বিশেষ করে গাউনপট্টি ও স্টেশন রোড এলাকায় মানুষের ঢল নামে। ছুটির দিনে ভিড় আরও বেশি হয়। টুপি, আতর ও জায়নামাজের দোকানগুলোতেও মুসুল্লির ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
স্বাধীনতা প্রাঙ্গণ এলাকায় কাপড় বিক্রি করেন আহাদ মিয়া। তিনি জানান, ক্রেতার বড় অংশই দিনমজুর, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার নিম্নআয়ের মানুষ। তবে, মধ্যবিত্তরাও আসছেন। কথা হয় রিকশাচালক মাহাবুবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঈদ মার্কেট মানেই ফুটপাত। এর বাইরে কেনাকাটা করার সামর্থ্য নেই। এখানে কম দামে যা পাই, তাতেই সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি।’
মূল্যস্ফীতির চাপে যেখানে নামিদামি দোকানে কেনাকাটা অনেকের নাগালের বাইরে, সেখানে ফুটপাতের এই অস্থায়ী বাজারগুলোই হয়ে উঠেছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ঈদ আনন্দের একমাত্র ভরসা। সীমিত সামর্থের মধ্যেও প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোর এই চেষ্টাই যেন ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভিন্ন এক ঈদের আমেজ।
 

আরও পড়ুন

×