নেতা কার্ড নিয়েছেন, চাল না পেয়ে বিতরণকেন্দ্রে দুস্থদের হট্টগোল
ভিজিএফের কার্ড না পেয়ে চাল বিতরণ কেন্দ্রে এসে হট্টগোল করেন শতাধিক দুস্থ মানুষ। গতকাল সোমবার ফুলবাড়িয়ার পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদে সমকাল
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভিজিএফের কার্ড না পেয়ে চাল বিতরণ কেন্দ্রে এসে হট্টগোল করেছেন শতাধিক দুস্থ মানুষ। তাদের বিক্ষোভের কারণে চাল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। গতকাল সোমবার ফুলবাড়িয়ার পুটিজানা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
বঞ্চিতদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা ডা. আইন উদ্দিন ৯৫০টি কার্ড নিলেও তা যথাযথভাবে বিলি করা হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আইন উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সদস্য। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার সারাদেশে দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) আওতায় ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কর্মসূচি নিয়েছে।
জানা গেছে, ফুলবাড়িয়ার পুটিজানা ইউনিয়নে দুই হাজার ৩৯৩টি দুস্থ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ছাড়া বাকি জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও প্রায় সব কার্ডই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দুই দলের নেতাদের মধ্যে কার্ডগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে বিএনপি ৯৫০টি ও জামায়াত ৮৫০টি কার্ড পায়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের তিন নারীসহ ১২ ইউপি সদস্য ৩৫টি করে মোট ৪২০টি কার্ড বরাদ্দ পান। ইউপি চেয়ারম্যান না থাকায় পরিষদের প্রশাসকের হাতে রাখা হয় ১৭৩টি কার্ড।
গতকাল ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে চাল বিতরণের দিন ধার্য করলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করেন। তাদের প্রায় সবাই কার্ড নিয়ে নির্ধারিত পরিমাণ চাল নিলেও শতাধিক মানুষ জানান তারা কার্ড পাননি। তাদের অভিযোগ, বিএনপি নেতা আইন উদ্দিন যে কার্ড নিয়েছেন, সেখান থেকে তাদের পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা পাননি। এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তারা হট্টগোল শুরু করলে চাল বিতরণ বন্ধ করে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলে কার্ডধারীদের মধ্যে পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে কার্ড না পাওয়া ব্যক্তিদের খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়। এ বিতরণ কার্যক্রম শুধু গতকাল বাস্তবায়িত হওয়ায় এই দুস্থরা ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সরকারের এ বিশেষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন।
বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ইউপির প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রওশন জাহান। বিক্ষোভ শুরু হলে তিনিই থানায় খবর দেন। পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ তাকী তাজওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুটিজানা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নমজ আলী এবং ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আফরোজা রাখা বলেন, এবারই দেখলাম নেতারা দুস্থদের কার্ড ভাগাভাগি
করে নেন। আর আমরা জনপ্রতিনিধি হয়েও ৩৫টি কার্ড ভাগে পাই।
কার্ড বিতরণ না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা ডা. আইন উদ্দিন বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুকের নির্দেশে পুটিজানা ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে আমি কার্ড ভাগ করে দেই। এ ছাড়া বিএনপির করিম গ্রুপের এবং গত সংসদ নির্বাচনে ফুটবল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আক্তার সুলতানার পক্ষের কিছু লোককেও কার্ড দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচন করেছেন এমন কিছু নেতাকে আমি কার্ড দিতে চাইলে তারা নেননি, তারাই আমার বিরুদ্ধে এমন অপবাদ ছড়িয়েছেন।
প্রশাসক রওশন জাহান বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান নেই। তাই কার্ড বিতরণ নিয়ে যেন ঝামেলা না হয়, সেজন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ডেকে তাদের মধ্যে কার্ড ভাগাভাগি করে দেওয়া
হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় এসব কার্ড দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করার কথা। কিন্তু আজ চাল বিতরণের দিন শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষ এসে কার্ড না থাকায় চাল না পেয়ে হট্টগোল শুরু করলে বিতরণ বন্ধ করে দিই।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, বিনামূল্যে সরকারি চাল বিতরণ কেন্দ্রে হট্টগোল হচ্ছে এমন খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমি ফোর্স পাঠাই। তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
- বিষয় :
- ভিজিএফ কর্মসূচি
