বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড স্টেশনে ডাকাতি
২ কোটি টাকার মালপত্র লুট
সংগৃহীত
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩০
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশনের চার পাহারাদারকে হাত-পা বেঁধে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালপত্র লুট করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। বুধবার (২৫ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কাছুটিয়া খেজুরতলা এলাকায় এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পাহারাদারদের ভাষ্যমতে, বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নির্মাণাধীন সাব-স্টেশনের গেটে নক করলে তারা গেট খুলে দেন। এ সময় ৫-৬ জন লোক ভেতরে ঢুকে আব্দুস সাত্তার নামে একজনকে খুঁজতে থাকে। সেখানে ওই নামে কেউ নেই জানালে তারা তল্লাশির নামে পাহারাদার মকছেদ আলী, আবুল কাশেম, শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে সোহাগকে ঘরে ডেকে নেয়। এরপর আরও ১৫-২০ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের চোখ, মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে।
পাহারাদার আবুল কাশেম বলেন, ‘আমাদের বেঁধে রেখে রাত ১টা পর্যন্ত তারা লুটতরাজ চালায়। অনেক চেষ্টার পর ভোর ৪টার দিকে সোহাগ নিজের বাঁধন খুলে আমাদের মুক্ত করে। এরপর একজনের মোবাইল নিয়ে আমরা ৯৯৯-এ এবং স্যারদের ফোন করি।’
পাওয়ার গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র (পিজিবিসি) উদ্যোগে এই সাব-স্টেশনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা কেবল মালপত্রই নেয়নি, প্রমাণের সপক্ষে থাকা দুটি সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক এবং পাহারাদারদের মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।
চায়না কোম্পানি সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, ডাকাতরা ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৬৮টি ব্যাটারি, ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার মিটার তামার তার এবং ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের অন্যান্য সামগ্রী লুট করেছে। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৯২ লাখ টাকারও বেশি।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাহবুবুর রশীদ জানান, গ্রিডটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে ছিল। এখান থেকে বড়াইগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ৫টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল এবং আগামী জুন মাসেই এটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে এই বিশাল ক্ষতির পর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, ‘ঘটনা উদ্ঘাটনে ডিবির একটি বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের দ্রুত আটক ও লুণ্ঠিত মালপত্র উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
