ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে অষ্টমী স্নানোৎসব

লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে  অষ্টমী স্নানোৎসব
×

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের লাঙ্গলবন্দে অষ্টমী স্নানোৎসবে পুর্ণার্থীর ঢল সমকাল

নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আদি ব্রহ্মপুত্র নদে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব। দুই দিনব্যাপী স্নানোৎসব গত বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে শুরু হয়ে শেষ হয় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে। এ উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে  লাঙ্গলবন্দের পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা।
এ উপলক্ষে রাস্তার দুই পাশে বসেছে বারোয়ারি মেলা। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা খৈ, মিষ্টি নিমকিসহ নানা সামগ্রী কিনে নিয়ে যান। তিথি অনুযায়ী বুধবার বিকেল ৫টা ১৯ মিনিট থেকে পুণ্যস্নানের লগ্ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নদের দুই পারের রাজঘাট, গান্ধিজিঘাট, পাগলা গাছতলা ঘাটসহ ২৪টি ঘাটে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল নামে। দেশীয় পুণ্যার্থীর পাশাপাশি এবারও ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পুণ্যার্থীরা অংশ নিয়েছেন মহাতীর্থ অষ্টমী স্নান উৎসবে।

পাপমুক্তির বাসনায় প্রতিবছর হিন্দু ধর্মাবলম্বী লাখো পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে অংশ নেন। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় তারা প্রার্থনা করেন।
পুণ্যার্থীরা জানান, পুলিশের শিথিলতার কারণে অনেক ইজিবাইক, অটোরিকশা সরু রাস্তায় প্রবেশ করে। যে কারণে রাত থেকে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ ছাড়া রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা কাদাজলে নোংরা হয়ে পড়ে। ফলে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে চলাচল করতে দেখা যায় পুণ্যার্থীদের।
পুরোহিত বাবলু চক্রবর্তী জানান, ত্রেতা যুগে ব্রাহ্মণ জমদাগ্নি ও রেণুকার পুত্র পরশুরাম মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তপস্যা করেন। পরে নির্দেশনা অনুযায়ী চৈত্র মাসের অষ্টমী তিথিতে হিমালয়ের মানস সরোবরে স্নান করে পাপমুক্ত হন। পরে সেই পুণ্যধারা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে তিনি লাঙ্গল দিয়ে হিমালয় থেকে সমভূমিতে নিয়ে আসেন। বর্তমান নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় এসে তিনি লাঙ্গল চালানো বন্ধ করলে স্থানটির নাম হয় লাঙ্গলবন্দ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য ৪৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া নারীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তন কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শিফটে প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আনসার সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেন। নৌ পুলিশও মোতায়েন ছিল। 
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, অষ্টমী স্নানোৎসব শেষ হয়েছে। উৎসবে লাখো হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ মহাষ্টমী স্নানোৎসব ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়তি যানবাহনের চাপে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাসড়কের ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী উভয় লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকাগামী লেনে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও চট্টগ্রামগামী লেনে দাউদকান্দি পর্যন্ত যানজট ঠেকেছে বলে হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ কৃষ্ণপদ জানান, লাঙ্গলবন্দ স্নানকে ঘিরে পুণ্যার্থীদের আগমনের ফলে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। গাড়ির চাপ কমাতে পারলেই সমাধান সম্ভব। 

আরও পড়ুন

×