৯ বছর পদোন্নতিবঞ্চিত ১৫০০ কর্মচারী ক্ষোভ বাড়ছে ভুক্তভোগীদের
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১০:০৫ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১১:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের যান্ত্রিক শাখায় কর্মরত দেড় হাজার ফিটিং কর্মচারী ৯ বছর ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০১৬ সাল থেকে বন্ধ থাকা এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কারণে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পদোন্নতি না পেয়ে অনেকেই একই পদে থেকে অবসরে গেছেন, কেউ মারা গেছেন, আবার কেউ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পাকশী বিভাগীয় রেলের আওতায় ঈশ্বরদী, পাকশী, পার্বতীপুর, খুলনা, রাজবাড়ী, রাজশাহী, সৈয়দপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যান্ত্রিক বিভাগে কর্মরত এসব ফিটিং কর্মচারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসন না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলওয়ে বিভাগে বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দফায় দফায় গেট মিটিং, গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন এবং কর্মবিরতি পালন করা হলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ
নেয়নি। এতে দীর্ঘদিন একই পদে কাজ করায় একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে অবসরের পর পেনশন ও গ্র্যাচুইটি
কম পাওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
এ অবস্থায় সাধারণ কর্মচারীদের দাবি, অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে তাদের ন্যায্য পদোন্নতি নিশ্চিত করা হোক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পদোন্নতি বন্ধ থাকায় ফিটার গ্রেড-১, মিস্ত্রি গ্রেড-১ ও ২ পর্যায়ের ১৩টি পদের মধ্যে ১২টিই এখন শূন্য। বর্তমানে মাত্র একজন কর্মরত আছেন, যিনি অবসরে গেলে এই পদগুলো পুরোপুরি কর্মীশূন্য হয়ে পড়বে। নিয়মিত পদোন্নতি সচল থাকলে এই শূন্যতা তৈরি হতো না এবং নিচের পদগুলোতে নতুন জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতো এমনটাই বলছেন পদোন্নতিবঞ্চিত শ্রমিকরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ফিটার গ্রেড-২, ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ সজিব খান বলেন, ‘২০১৬ সালের পর থেকে আমাদের পদোন্নতি বন্ধ। আমরা বারবার আন্দোলন ও দাবি জানালেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো কর্ণপাত করছে না।’
একই পদে কর্মরত মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘পদোন্নতি না পাওয়ায় আমরা কাজের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ট্রেন দুর্ঘটনায় রিলিফ ট্রেনের কাজ থেকে আমরা বিরত থাকতে বাধ্য হব, যা ট্রেন চলাচল অচল করে দিতে পারে।’
ওয়েল্ডার গ্রেড-১ মো. ফয়সাল বাদশা সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, যান্ত্রিক বিভাগের কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দিলে রেল চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।’
ওয়েল্ডার মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ন্যায্য দাবি না মানলে ট্রেন চলাচল অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’
এই সংকটের বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খান বলেন, ‘পদোন্নতির বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয় এবং মহাপরিচালকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু বলার বা করার এখতিয়ার নেই।’
এ বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেনের সঙ্গে। মোবাইল ফোনে তিনি জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলের যান্ত্রিক বিভাগের কর্মচারীদের লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন এবং এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
- বিষয় :
- পদোন্নতি
