৯ সড়কের গাছে মড়ক, ভেস্তে গেছে বনায়নের উদ্যোগ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের কৈয়া-মোস্তর মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কে মরে যাওয়া গাছগুলো। ছবিটি সম্প্রতি তোলা সমকাল
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনার ডুমুরিয়ায় ৯টি সড়কের পাশে বনায়ন প্রকল্পের আওতায় নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করেছিল সরকারের কয়েকটি সংস্থা। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত চার বছরে এসব গাছের বেশির ভাগ মারা গেছে। তবে বনায়নকারী সংস্থা রোগ শনাক্ত বা আক্রান্ত গাছগুলো বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
গত বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কৈয়া-মোস্তর মোড়, শৈলমারী-শরাফপুর, বসুন্দিয়া-চরচটিয়া, কাঁঠালতলা-মাগুরখালী, সুন্দরবুনিয়া-গোলাবদহ, ডুমুরিয়া-বানিয়াখালী, শাহাপুর- ফুলতলা, রংপুর-খর্নিয়া, গুটুদিয়া-শলুয়া সড়কের পাশে মৃতপ্রায় বা মরা গাছের ছড়াছড়ি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অজ্ঞাত রোগের আক্রমণে সড়কের পাশে রোপণ করা বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ মারা গেছে। গত চার বছর ধরে মড়কের সাবাড় হলেও গাছগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সংস্থার কর্মকর্তাদের নজর নেই। মড়ক শনাক্ত এবং গাছগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সংস্থার কোনো উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়নি।
জানা গেছে, ২০০১ সালের দিকে উপজেলার বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে সড়কগুলোর দুপাশ
ঘেঁষে শিরিষ, মেহগনি, রেইনট্রি ও নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়। বপন করা হয় বাবলাগাছের বীজও। ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে এসব গাছ। সড়কের দুই পাশ সবুজে ছেয়ে যাওয়ায় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রংপুর গ্রামের কাজল বিশ্বাস, গুটুদিয়া গ্রামের আবুল হোসেন ও গোলাবদহ গ্রামের দেবব্রত হালদারের ভাষ্য, ২০২২ সালের মার্চের দিকে গাছগুলোর ডাল-পাতা শুকাতে শুরু করে।
এরপর এক পর্যায়ে পুরো গাছের ছাল শুকিয়ে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে মরতে শুরু করে গাছগুলো। মরা গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়কে সবুজের সমারোহ উজাড় হতে থাকে। তবে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে অধিক সহনশীল হওয়ায় কিছু বাবলাগাছ এখনও জীবিত।
শরাফপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হেসেন বলেন, অজ্ঞাত রোগে সড়কের পাশের শত শত গাছ মরে গেছে। আরও কয়েকশ গাছ ‘আধা মরা’ অবস্থায় আছে। গ্রামবাসী অনেকেই এসব গাছর গোড়াসহ কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার রুদঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক জিএম আমানুল্লাহ আমান বলেন, ডুমুরিয়ার অধিকাংশ সড়কে কয়েক বছর আগে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ ছিল। এতে এলাকাজুড়ে পাখির কোলাহল ও সবুজের সমারোহ ছিল। পথচারীরা বিশ্রাম নিতে পারতেন। মড়ক লেগে গাছগুলো মরে যাওয়ায় অক্সিজেনের কারখানা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দেওয়া উচিত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলাগাছে সাধারণত পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন হয় না। এ গাছ নোনাপানির প্রভাবেও সহজে মারা যায় না। ফলে সড়কের পাশে কেবল এ গাছগুলো টিকে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইনসাদ-ইবনে আমিনের ভাষ্য, এক ধরনের পোকা গাছের কাণ্ডে আক্রমণ করে নরম অংশ খেতে শুরু করে। ফলে গাছগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। নোনাপানির প্রভাবেও গাছ মারা যেতে পারে। পোকা দমনে ব্যবস্থা নিলে জীবিত গাছগুলো রক্ষা করা সম্ভব বলে ধারণা করছেন তিনি।
সড়কের পাশে বনায়নের কিছু গাছে ভাইরাস ও কিছু গাছে পোকা হানা দিয়েছে বলে মত দেন বন কর্মকর্তা মো. লিয়াকাত আলী খান। বালাইনাশক ছিটিয়ে আক্রান্ত গাছগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছগুলো নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহম্মাদ দারুল হুদা ও খুলনা পাউবো বিভাগ-১, নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল সেন দাবি করেন,
সড়কের পাশে বনায়ন প্রকল্পের গাছে মড়ক লাগার বিষয়ে তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে তাদের কেউ তথ্য দেয়নি। খোঁজখবর নিয়ে বনায়ন প্রকল্পের গাছগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
- বিষয় :
- বনায়ন
