ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্মরণ

ভাটির গ্রাম উজানধলে গানে গানে মিলনমেলা

ভাটির গ্রাম উজানধলে গানে গানে মিলনমেলা
×

শাহ আবদুল করিম স্মরণ উৎসবে নৃত্য পরিবেশনা। গতকাল শুক্রবার তোলা সমকাল

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৭ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১১:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কালনী নদীতীরের নির্জন গ্রাম উজানধল হঠাৎই রূপ পাল্টাতে থাকে। সন্ধ্যা পেরিয়ে যতই রাত ঘনিয়ে আসছিল, গ্রামের মাঠে বাড়তে থাকে লোকজনের আনাগোনা। শত শত মানুষের পদচারণায় পরিবেশ মুখর হতে শুরু করে। কোথাও জটলা বেঁধে চলছে গান, কোথাও কথোপকথন। মূল মঞ্চেও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গাঁথা গানের মনোমুগ্ধকর সুর। আলো জ্বলছে। আর সেই আলো সুরের ধারার সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে পড়ছে অতিথিদের হৃদয়ে। শত শত ভক্ত-অনুরাগী মন্ত্রমুগ্ধের মতো মেতে উঠেছেন উৎসবের আমেজে। রাত যতই গভীর হচ্ছে, আয়োজন ততই জমে উঠছে।

গতকাল শুক্রবার লোকগানের কিংবদন্তি বাউল শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উজানধলে লোক উৎসবে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। দুদিনব্যাপী এ উৎসব রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হয়। উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। 

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও শাহ আবদুল করিম পরিষদের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতি দেখা যায়। গানে গানে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরই এ লোক উৎসবকে ঘিরে উজানধল পরিণত হয় ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। 

উৎসবকে ঘিরে বসেছে শতাধিক দোকানপাট। শিশুদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার বিভিন্ন আয়োজন। পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের দেশীয় খাবারের দোকান দর্শনার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ফলে উৎসবটি শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিণত হয়েছে এক প্রাণবন্ত গ্রামীণ মেলায়।

শাহ আবদুল করিম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বাউল শাহ নূর জালাল জানালেন, বাউল সম্রাটের জীবন ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। তিনি বলেন, উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা শাহ আবদুল করিমের গান পরিবেশন করছেন। শিষ্য-অনুরাগীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরাও অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টিতে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন বার্তা রয়েছে। সিলেটের কদমতলী থেকে আসা বাউলশিল্পী সৌমিতা ভট্টাচার্য বলেন, প্রথমবারের মতো উজানধলে এসে তিনি খুব আনন্দিত। এখানে এসে দেখলেন– সবাই শাহ আবদুল করিমের গানে মগ্ন। তাঁর গান যেন মানুষের মুখে মুখে বেঁচে আছে। 

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি লিখেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

আরও পড়ুন

×