উত্তরাঞ্চল-ঢাকাগামী যাত্রায় শনিবারও তীব্র যানজট
শনিবার ভোরের দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ের সয়দাবাদ গোলচত্বরের যানজটের চিত্র। ছবি: সমকাল
সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৬:৪৭ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৭:১৬
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের শনিবারও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শনিবার ভোর থেকেই সয়দাবাদ গোলচত্বর থেকে কড্ডা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। সকাল ৯টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
কড্ডা ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, সেতুর ওপর ঢাকামুখী একটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় ভোর থেকে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। পরে পুলিশ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এই দুর্ভোগ একদিনের নয়। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই চাপ বাড়তে থাকে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে রওনা হওয়া যাত্রী তৌহিদুজ্জামান ইমন বলেন, কড্ডা ও সায়দাবাদ এলাকায় দেড় ঘণ্টা, পরে চন্দ্রায় আরও দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলাম। সাধারণত ৭-৮ ঘণ্টার পথ এবার ৩-৪ ঘণ্টা বেশি লেগেছে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, সিরাজগঞ্জে দুই ঘণ্টা, চন্দ্রায় আরও দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পুরো যাত্রাই হয়ে গেছে কষ্টকর।
স্থানীয় সরকার বিভাগের রিভার প্রকল্পের কর্মচারী মিজনু বেগম বলেন, সয়দাবাদ ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণ কাজের কারণে গাড়ির গতি ধীর ছিল।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদ শেষে হঠাৎ করে ঢাকামুখী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ২৭৮টি যানবাহন পার হয়েছে, যা থেকে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, চাপের মধ্যে একটি গাড়ি বিকল হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ভোর ৫টা থেকে ৯টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধীরগতিতে যান চলাচল করেছে। বিকেলে আবার চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার বড় কারণ সেতুর লেন সংকীর্ণতা। বর্তমানে প্রতিটি লেনের প্রস্থ ৬ দশমিক ৩ মিটার, যেখানে আন্তর্জাতিক মান ৭ দশমিক ৩ মিটার। সেতুর ওপর রেললাইন থাকায় চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।
সাসেক-২ প্রকল্পের পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. ওয়ালীউর রহমান বলেন, এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু সেতু প্রশস্ত না হলে পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি চন্দ্রা মোড়ে হাটিকুমরুলের মতো ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ দরকার।
এদিকে যানজট কমাতে সেতুর লেন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেললাইন ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক দরপত্রও সম্পন্ন। মূল্যায়ন শেষে আগামী জুনে কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।কাজ সম্পন্ন হলে প্রতিটি লেন আরও প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে ঈদসহ যেকোনো সময়ের অতিরিক্ত চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং দীর্ঘ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
