ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কপোতাক্ষ নদে বাঁধ দিয়ে জমি দখলের মচ্ছব

কপোতাক্ষ নদে বাঁধ দিয়ে  জমি দখলের মচ্ছব
×

খুলনার কয়রা উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদে মাছ চাষের জন্য দেওয়া বাঁধ। ছবিটি উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের সমকাল

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময়ের প্রমত্তা কপোতাক্ষ নদের দুই পাশে পলি জমে ভরাট হতে হতে এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে। সেখানে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া এবং পরে দুই পারে জেগে ওঠা জমি দখল করে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে। খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কেটে রাতারাতি সেখানে কেউ ঘর তুলছেন, আবার কেউ রাস্তা নির্মাণ করে চিংড়িঘের তৈরি করছেন। এমন অবস্থা খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের মসজিদকুড় ও নাকশা গ্রামে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদ ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে পড়েছে। সেখানে জেগে উঠেছে শত শত বিঘা জমি। দীর্ঘদিন ওই জমি পড়ে থাকলেও কেউ দখলে নেয়নি। ঈদুল ফিতরের টানা ছুটির সুযোগে নাজমুল সানা নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে জমি দখলের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমাদি ইউনিয়ন যুব বিভাগের দপ্তর সম্পাদক।
একই গ্রামের আব্দুল হামিদ সানা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে নাজমুল সানা ও তাঁর লোকজন মিলে নদের ৪০-৫০ বিঘার মতো জমি দখল করেছেন। তাদের দেখাদেখি এলাকার অনেকেই সেখানে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আইবুর রহমান জানিয়েছেন, ওই জমি একসময় নাজমুল সানা ও তাঁর বংশের লোকজনের রেকর্ডকৃত জমি ছিল। অনেক আগে নদীভাঙনে তা কপোতাক্ষের পেটে চলে যায়। এখন চর জেগে ওঠায় তা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করা ঠিক হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। 
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে চরের জমি দখল নিতে তৎপর হয়েছেন নাজমুল সানা ও তাঁর সহযোগীরা। তারা রাতদিন সেখানে শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকায় মোবাইল ফোনে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে বাধা দিতে গেলেও তারা মারমুখী আচরণ করছেন। 
জামায়াতের কয়রা উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সুজাউদ্দীন আহমেদ জানিয়েছেন, নাজমুল সানা পদধারী কেউ নন। তবে জামায়াতের যুব বিভাগের সঙ্গে থাকেন সব সময়। কপোতাক্ষের চর ভরাট করে জমি দখলের বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। 
অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজমুল সানা বলেন, নদীর চরের ওই জমি এক সময় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীতে চলে যায়। এখন ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানে যার জমি তিনি দখলে নিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে দখল হচ্ছে–এ তথ্য ঠিক নয়। 
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, খবর পেয়ে সেখানে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে দেওয়া বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×