ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সরেজমিন: কুষ্টিয়া

আক্রান্ত বেশি দুই উপজেলায়, প্রথম রোগী ঢাকার

আক্রান্ত বেশি দুই  উপজেলায়, প্রথম  রোগী ঢাকার
×

খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হামে আক্রান্ত রোগী কুষ্টিয়ায়। জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুর সংখ্যা। গতকাল বুধবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা সমকাল

 সাজ্জাদ রানা, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলায় এ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৯৭ শিশু। জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ১১ জন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ শিশু। কোনো মৃত্যু না থাকলেও হামের প্রকোপে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। 

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮ দিনে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৩ শিশু ভর্তি হয়। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার এই তথ্য দেন।  
জানা গেছে, ৯০ শতাংশ শিশুর বয়স ছয় মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলা হামের উপসর্গের রোগীদের হটস্পট। ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে এ পর্যন্ত ১১টি পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। প্রথম রোগী এসেছিল ঢাকা থেকে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৪ রোগী ভর্তি আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ রোগী ছাড় পেলেও নতুন ভর্তি হয়েছে ১১ জন। 

গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। ওয়ার্ডে ঠাঁই না পেয়ে বারান্দায় রাখা হয়েছে শিশু রোগীদের। হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের আলাদাভাবে একটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানেও শয্যার ঘাটতি। কয়েকটি বিছানায় দুজন করে শিশু রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশুই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত। শরীরে ফোঁটা ফোঁটা দাগ রয়েছে। শিশু সন্তানদের কোলে নিয়ে বসে আছেন তাদের মা ও স্বজনরা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের একই চিত্র। সেখানেও রোগী বাড়ছে। গুরুতর অসুস্থদের রেফার করা হচ্ছে। আইসিইউ ওয়ার্ডকে আইসোলেশন করা হয়েছে। 
গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে আসা এক বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় বসে ছিলেন মা হামিমা খাতুন। তার বাড়ি মিরপুর উপজেলার কাতলামারী গ্রামে। তিনি জানান, মেয়ের প্রচণ্ড জ্বর আসে। গায়ে প্রচুর ‘র‍্যাশ’ দেখা দেয়। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

ছেলেকে নিয়ে সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকা থেকে আসা মো. আব্দুল্লাহ জানান, তাঁর ছয় মাস বয়সী সন্তান নোমানকে নিয়ে দুদিন আগে ভর্তি হন। তিনি বলেন, প্রথমে ছেলের জ্বর হয়। এরপর নিউমোনিয়া। সারা শরীরে ছোট ছোট দাগে ভরে যায়। পরে হাসপাতালে এনেছি। এখন কিছুটা ভালো আছে। কুমারখালী থেকে সাহাবুল ইসলাম নামে এক শিশুকে নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মা আফিয়া খাতুন। তিনি বলেন, ছেলের প্রথমে জ্বর আসে। ঠান্ডা ছিল। এরপর গায়ে র‍্যাশ বাড়লে হাসপাতালে ভর্তি করি।  

এদিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে কোনো ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সিরিঞ্জসহ অক্সিজেন দেওয়ার পানি, নলসহ সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় একবার চিকিৎসক দেখতে আসেন।
ওষুধসহ যেসব বিষয়ে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স কামরুন্নাহার বলেন, পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। স্টোর কক্ষের কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। কোনো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগী ২৪ জন ভর্তি আছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট রয়েছে। তবে কোনো ভেন্টিলেশন সাপোর্ট নেই। তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্সের তত্ত্বাবধানে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামে আক্রান্ত রোগী আসছে। এসব হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক হাম আইসোলেশন কর্নার খোলা হয়েছে। 

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন সমকালকে বলেন, জেনারেল হাসপাতালের বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আক্রান্ত শিশু আসছে। রোগী বাড়তির দিকে। হামে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভা করে আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।       

 

আরও পড়ুন

×