ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঘুষ না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

ঘুষ না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ
×

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে ঘুষ না দেওয়ায় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুই মাস ধরে ওই কাজ বন্ধ রয়েছে।

এসআর ট্রেডার্স নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রুমান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে ধুল্লা ভায়া খুনিরটেক বাজার সড়কে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকায় দুই হাজার মিটার সড়কের উন্নয়নকাজ এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড)-এর মাধ্যমে পাই। গত ২০ ডিসেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করার অনুমতি চাই। উপজেলা প্রকৌশলী ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার অনুমতি দিলে ৩৫০ মিটার প্যালাসাইডিং-এর খুঁটি তৈরি করার মালপত্র কিনে সাইটে মজুত করি। পরে খুঁটি তৈরি করার জন্য ১০ জন রাজমিস্ত্রি টাঙ্গাইল থেকে এলে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেন। ১০ জন রাজমিস্ত্রিকে ৭ দিন বসিয়ে রেখে তাদের মজুরি দিয়ে চলে যেতে বলি।’ 

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ মিয়া সাইট পরিদর্শন করে আমাকে পরদিন অফিসে আসতে বলেন। অফিসে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী ইমরুল হাসান আমাকে রেডিমেইড খুঁটি দিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। আমি এতে আপত্তি করলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে আমাকে জানানো হয় ক্রয়কৃত মালপত্র টেস্টে পাঠানো হবে। ফল ভালো এলে পুনরায় কাজের অনুমতি চাই। প্রকৌশলী ইমরুল হাসান কাজ শুরু করার আগে বরাদ্দকৃত এক কোটি ৬১ লাখ টাকার মধ্যে ২ শতাংশ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এতে আমি রাজি হয়ে তিন দিনের সময় চাই। কাজ চলমান অবস্থায় তিন দিনের মধ্যে ওই টাকা দিতে না পারায় তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এতে আমার ২০০ ব্যাগ সিমেন্ট জমে যায়। পরে রড, পাথর ও বালুর বেশির ভাগ সাইট থেকে চুরি হয়ে যায়। এতে আমি ২০ লাখ টাকার লোকসানে পড়ি।’ মো. রুমান বলেন, ‘আমি ছাত্র। ছাত্রজীবনে এটি আমার লাইসেন্সে প্রথম কাজ। এসব কর্মকর্তার কারণে আমার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে।’ 
মো. রুমান আরও বলেন, ‘প্রকৌশলী ইমরুল হাসানকে জয়পুরহাট জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সদরদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে প্রেষণে বদলি করা হয় গত ৯ মার্চ। পরে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে আবার ২৪ মার্চ আগের কর্মস্থল সাটুরিয়ায় বহাল রাখা হয়। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমি গত ২৪ মার্চ ঢাকায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ক্ষতিপূরণ ও দুর্নীতির বিচার চেয়েছি।’ 

সাটুরিয়ার কয়েকজন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, প্রতিটি কাজ থেকে উপজেলা প্রকৌশলী মূল বরাদ্দের ওপরে ১ থেকে ৩ শতাংশ ঘুষ নিয়ে থাকেন। এরপর তিনি কাজের গুণগত মান ও ভুল ধরে আরও অতিরিক্ত টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন। ঘুষ না দিলে প্রকল্পের কাজ কোনো ঠিকাদার করতে পারেন না। 
এ বিষয়ে জানতে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসানকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাঁকে না জানিয়ে কাজ শুরু করায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাজ শুরুর আগে ২ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছে কোনো প্রকার ঘুষ চাওয়া হয়নি। ঘুষ চাওয়ার অডিও রেকর্ড রয়েছে জানালে তিনি বলেন, শুনেছি অনেকে নাকি এআই দিয়ে অডিও রেকর্ড তৈরি করতে পারে। এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে তিনি এ প্রতিনিধিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য বলেন।
সাটুরিয়ার ইউএনও ইকবাল হোসেন বলেন, যেকোনো প্রকল্পের কাজ শুরু বা শেষ হওয়ার আগে পরে কোনো প্রকার ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×