এসিল্যান্ড অফিসের দুই কর্মীকে সরাতে আলটিমেটাম
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে এসিল্যান্ড অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাদের অপসারণে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দাবিতে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়। পরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে মাওয়া-লৌহজং-বালিগাঁও সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকে।
অভিযুক্ত দুজন হলেন– উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের অফিস সহকারী ইমন হোসেন ও গাড়িচালক আল-আমিন। বিক্ষোভকারীরা জানান, ভূমি অফিসের (উমেদার) ইমন হোসেন এসিল্যান্ডের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন। কাগজে ভুলত্রুটির কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছয় হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে গত ৪ বছরে ইমন হোসেন বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেছেন। বাড়িতে তিনি প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি টিনকাঠের দোতলা ঘর তুলেছেন। কোটি টাকার বহুতল পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নরসিংদীর মনোহরদীর নরেন্দ্রপুর মৌজায় ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি কিনেছেন। লৌহজংয়ের ঘোড়দৌড় বাজারে খাসজমিও বরাদ্দ পেয়েছেন। এ ছাড়া গাড়িচালক আল-আমিন সম্প্রতি এসিল্যান্ডের কথা বলে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। আল-আমিনও ঘোড়দৌড় বাজারে চারটি ভিটি বরাদ্দ নিয়েছেন। বেজগাঁও ইউনিয়নের ভোগদিয়া মৌজায় মা ও বোনের নামে প্রায় ২০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েছেন।
কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী ইজারাকৃত বালু ব্যবসায়ী অরুণ মাঝি বলেন, আমি একজন বৈধ বালু ব্যবসায়ী। আমার কাছে ইমন ও আল-আমিন এসিল্যান্ডের কথা বলে ছয় লাখ টাকা দাবি করে। ইট-বালু ব্যবসায়ী জসিম মোড়ল বলেন, ইমন এসিল্যান্ডের নাম করে আমার দুটি মাহেন্দ্র গাড়িকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। বিরক্ত হয়ে গাড়িগুলো বিক্রি করে দিই। গৃহবধূ পিয়ারা বেগম বলেন, নভেম্বরে জমির নামজারির জন্য আবেদন করেছি। প্রতি সপ্তাহে অফিসে গেলেও কাজ হচ্ছে না। ইমন এসিল্যান্ডের কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। আমার স্বামী অটোরিকশা চালান, আমি এত টাকা কোথায় পাব?
আরেক ভুক্তভোগী শাহজাহান জানান, তাঁর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোলায়মান ১৯৬৩ সালে উপজেলার কাজিরপাগলা মৌজায় ২৭৮ শতাংশ জায়গা স্থায়ী বন্দোবস্ত পান। ২০২৪ সাল পর্যন্ত খাজনা দেওয়া ছিল। পরে নবায়ন করতে এলে বর্তমান এসিল্যান্ড ইমন ও আল-আমিনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তারা তখন ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। তা না দেওয়ায় জমিটি অন্য কয়েকজনের মধ্যে টাকার বিনিময়ে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ইমন হোসেন বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার বড় ভাই বিদেশে থাকেন। তাঁর টাকায় দোতলা ঘর ও ভবন বানানো হয়েছে। আল-আমিন বলেন, অনৈতিক দাবি মেনে না নেওয়ায় বালু ব্যবসায়ীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তার জানান, তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমার যোগদানের আগের। বর্তমানের অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই।
- বিষয় :
- আলটিমেটাম
- এসিল্যান্ড
- লৌহজং
- মানববন্ধন
