ঘর নয় যেন পাখির বাসা
তাড়াশ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজের ঝুপড়ি ঘরের সামনে সাইফুল সমকাল
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘বাড়ি তো নয় পাখির বাসা– ভেন্না পাতার ছানি,/ একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।’ পল্লিকবি জসীম উদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতার সেই করুণ চিত্র যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের ষাটোর্ধ্ব সাইফুল ইসলামের জীবনে। মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ঝুপড়ি ঘরে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর বসবাস করছেন এই অসহায় বাবা। দারিদ্র্য আর সন্তানের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে আজ তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব।
তাড়াশ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসাপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম এক সময় মাছ শিকার করে সংসার চালাতেন। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘকাল ধরে দুরারোগ্য ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। মাসে অন্তত তিন ব্যাগ রক্ত দিতে হয় তাকে। ছেলের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে দেড় দশক আগেই সাইফুল দেউলিয়া হয়ে পড়েন। অভাবের তাড়না ও অসুস্থ সন্তানের ভবিষ্যৎ দেখে স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে অন্যত্র সংসার পেতেছেন। বর্তমানে অসুস্থ ছেলের মাসে অন্তত তিনবার রক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। মাছ ধরে যা আয় হয়, তা দিয়ে ওষুধ কেনা আর হাসপাতালে যাতায়াত খরচ মেটাতেই ফুরিয়ে যায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন সড়কের পাশে মাত্র এক-দেড় শতক খাসজমিতে পলিথিন ও গাছের ডাল দিয়ে তৈরি একটি ঝুপড়িতে ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন সাইফুল। ওই ঘরে নেই কোনো কাঁথা-বালিশ, নেই শৌচাগার বা বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবঅয়েল।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অসুস্থ সন্তান রেখে ঘরের বউ চলে গেছে। শরীর এখন আর আগের মতো চলে না। মাছও ধরতে পারি না। ঘর তোলার সামর্থ্য নেই।’ তিনি আরও জানান, বৃদ্ধ মা মাঝেমধ্যে মানুষের কাছে চেয়ে আনলে খাবার জোটে, না হলে অনাহারে থাকতে হয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ও অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
ইউএনও নুসরাত শারমিন জানান, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
- বিষয় :
- পাখি
