জাকির-স্বপ্নার ঘর আলো করে এল ‘বৈশাখী উপহার’
সদ্যজাত সন্তানের সঙ্গে মা স্বপ্না আক্তার
নাসির লিটন, ভোলা
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩২ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৪৬
বাংলা পঞ্জিকার পাতায় তখন কেবল শুরু হয়েছে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-এর নতুন পথচলা। চারদিকে যখন নববর্ষের আবাহন এমন শুভক্ষণে ভোলার দৌলতখানের মেদুয়া গ্রামের জাকির হোসেন ও স্বপ্না দম্পতির জীবনে এল পরম প্রাপ্তি। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে বৈশাখের প্রথম দিনে তাদের কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে ছেলেসন্তান।
স্বপ্নার কোলজুড়ে নতুন অতিথির আগমন হওয়ার কথা ছিল আরও বেশ কয়েক দিন আগে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল প্রসব বেদনা উঠলেই হাসপাতালে নিয়ে আসার। কিন্তু দিন গড়িয়ে সপ্তাহ পার হলেও সেই মাহেন্দ্রক্ষণের দেখা মিলছিল না। প্রতিবেশী আর অভিজ্ঞদের আশ্বাসে অপেক্ষা বাড়লেও মা-বাবার মনে কাজ করছিল এক অজানা দুশ্চিন্তা। সেই অনিশ্চয়তার মেঘ কাটে মঙ্গলবার, পহেলা বৈশাখ সকালে।
দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে স্বপ্নার প্রসব বেদনা। দেরি না করে স্বামী জাকির হোসেন তাকে নিয়ে ছোটেন ভোলা শহরের আল আকসা হাসপাতালে। সেখানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিথিলা তামান্নার তত্ত্বাবধানে কোন জটিলতা ছাড়াই নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয় এক ছেলে শিশুর।
পেশায় ওয়ার্কশপ শ্রমিক ২৫ বছর বয়সী জাকির হোসেনের চোখেমুখে এখন কেবলই প্রাপ্তির হাসি। তিন বছর আগে তজুমদ্দিন উপজেলার স্বপ্নার সঙ্গে স্বপ্নের সংসার বেঁধেছিলেন। অভাবের সংসার হলেও স্ত্রীর যত্নে কোনো ত্রুটি রাখেননি। নিয়মিত চেকআপ আর চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন সাধ্যের সবটুকু। জাকির বলেন, বছরের প্রথম দিনে ছেলে সন্তান পাওয়া আমার কাছে বিশেষ কিছু। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে মা ও ছেলে দুজনেই সুস্থ আছে। শত অভাবের মধ্যেও ছেলেকে আমি সুশিক্ষায় বড় করে তুলতে চাই।
নবজাতকের মা স্বপ্নার কাছেও এটি জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত। সুস্থভাবে সন্তানকে কোলে নিতে পেরে তিনি চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।
সাধারণত জটিলতা এড়াতে এখনকার সময়ে অনেকেই অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকলেও, স্বপ্নার ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক ডা. মিথিলা তামান্না। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, মা ও নবজাতক দুজনেই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
নতুন বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া এই বিশেষ অতিথিকে বরণ করে নিতে ভোলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আল আকসা হাসপাতালের চেয়ারম্যান আরিফ উদ্দিন লিটন জানান, বছরের প্রথম দিন জন্ম নেওয়া এই শিশুর চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড়সহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
পহেলা বৈশাখের এই আনন্দ যেন জাকির-স্বপ্নার সংসারে নিয়ে এসেছে এক নতুন আশার আলো। বৈশাখের তপ্ত দুপুরে আসা এই 'নতুন প্রাণ' যেন তাদের জীবনের সমস্ত অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিয়ে গেল।
- বিষয় :
- সমকাল
- প্রজন্মবরন ১৪৩৩
- ভোলা
- বৈশাখী উৎসব
