ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পহেলা বৈশাখে প্রস্তাব, পরে বিয়ে-সেই দিনে মা হলেন মীম

পহেলা বৈশাখে প্রস্তাব, পরে বিয়ে-সেই দিনে মা হলেন মীম
×

বাবার কোলে যশোরে জন্ম নেওয়া নবজাতক

তৌহিদুর রহমান, যশোর

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:৪৭ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:১৭

পহেলা বৈশাখে প্রেম ও বিয়ের পর এবার একইদিনে পুত্র সন্তানের মা হলেন যশোরের মীম ইসলাম। 
মঙ্গলবার ভোর ৫ টা ৩০ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। মা ও নবজাতক সুস্থ থাকায় একইদিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। 
সদ্যোজাত শিশুটি রমিস হোসেন ও মীম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। ভাইকে পেয়ে খুশি বড় বোন আছিয়াও।
রমিস হোসেনের বাড়ি নড়াইলের সিঙ্গাশোলপুর গ্রামে। তিনি একটি এনজিওর মাইক্রো ক্রেডিট অফিসার হিসাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় চাকরি করেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে যশোর শহরের ঘোপ রেলরোড এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। 
মীম জানান, গর্ভকাল থেকেই সরকারি হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চিকিৎসা চলছিল। গত ২৬ মার্চ মাসের আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানতে পারেন সন্তান প্রসবের তারিখ ১৫ এপ্রিল। কিন্তু হঠাৎ করে সোমবার সন্ধ্যার পরে মৃদু প্রসব বেদনা ওঠে। 
তিনি আরো জানান, স্বামী হরিণাকুন্ডু থেকে ওই রাতে ছুটে আসেন। রাত তিনটার দিকে প্রসব বেদনা বাড়লে জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। 

মীম বলেন, 'যখন প্রসব বেদনা ওঠে, তখন ভেবেছিলাম মনে হয় বাঁচবো না।' ছেলের নাম রাখা প্রসঙ্গে মীম বলেন, "ওর বাবা আর আমি মিলে ছেলের নাম 'মেহরাব' ঠিক করে রেখেছি। এর আগে পরে বাবার নাম ও বংশের পদবি যোগ করে পূর্ণাঙ্গ নাম রাখা হবে।"   
রমিস বলেন, ‘মীমের প্রসবের সময় যতই ঘনিয়ে আসছিল, ততই আমার দুশ্চিন্তা বাড়ছিল। প্রসব বেদনার খবর শুনেই মোটরসাইকেলে হরিণাকুণ্ডু থেকে রওনা দিই। যশোরে পৌঁছে রাত তিনটায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। সুস্থভাবে সন্তান হওয়াতে এখন বেশ ভালো লাগছে।'  
'হাসপাতালের চিকৎসক-নার্স সবাই আন্তরিক। মা ও নবজাতক সুস্থ আছে। আর ভেবে ভালো লাগছে যে, পহেলা বৈশাখে ওর মাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলাম; সেই পহেলা বৈশাখে সন্তান হলো।' - বলেন রমিস। 
দাদি নাছিমা বেগম বলেন, 'নাতিন হওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। অনেকেই দেখতে আসছেন, ফোনে খোঁজ নিচ্ছেন। আমাদের দুই পরিবারেই আনন্দের জোয়ার বইছে।' তাঁর প্রত্যাশা- তার দাদাভাই বেঁচে থাকুক, আর বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করুক। 
হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স সেলিনা আক্তার বলেন, ‘গভীর রাতে প্রচণ্ড  প্রসব বেদনা নিয়ে আসে মীম। পরে ৩ কেজি ৮শ’গ্রাম ওজনের ছেলে সন্তান হয়েছে। দুজনেই সুস্থ থাকায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।'  
উল্লেখ্য, রমিসের মায়ের ফুপাতো ভাইয়ের মেয়ে মীম। পূর্বে পরিচিত থাকলেও মীমকে  ভালোবাসার কথা বলতে পারেননি তিনি। ২০১৮ সালের পহেলা বৈশাখে এক মামাতো ভাইয়ের বিয়েতে গোপালগঞ্জ যান। সেই বরযাত্রীতে মীমও ছিলেন। সেই বিয়ের দিন রমিস প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হওয়ার বছর খানেক পর দুই পরিবারের সম্মতিতে গাঁটছাড়া বাঁধেন তারা। 

আরও পড়ুন

×